ঢাকা | ৩০ জুলাই, ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঢাকা | ৩০ জুলাই, ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি কাজের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভা আজ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৪ জুন সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈমের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। 

এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা তাদের বিগত মাসের কাজের অগ্রগতি এবং আগামী মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। 

যে সব এনজিও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের সরকারি কারিকুলামে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, আত্মহত্যা প্রবণতা কমানো, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার প্রতিরোধে এনজিওগুলোকে মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক করার আহ্বান জানানো হয়। সভায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এনজিওগুলোর প্রতিটি প্রকল্প যাতে সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে আসে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। 

নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এনজিওগুলো সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রতিটি এনজিওকে স্বচ্ছতার সাথে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। এনজিও সমূহকে মাদকবিরোধী, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, আত্মহত্যা  প্রবণতা কমানো, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু পাচার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে উঠান বৈঠক, সভা ও সেমিনার করতে হবে। 

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, জাতীয় মহিলা সংস্থার সমন্বয়কারী মাহমুদ হাসান, পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের কৃষি প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, টিটিসি ইন্সট্রাক্টর আনোয়ার কবীর,  জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক ইমতিয়াজ আলী, জেলা সমবায় পরিদর্শক জেসমিন আরা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, ওয়েব ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হানসহ এনজিও সমূহের প্রতিনিধিবৃন্দরা।

বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া এনজিওর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করলো ভারত
এনজিও বাংলা ডেস্ক : ভারতে বিদেশি অর্থায়ন গ্রহণকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) জন্য নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, কোথায় কাজ করা হবে এবং অর্থ ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।

মোদী সরকার ২০১৪ সালের পর থেকে হাজার হাজার এনজিওর বিদেশি অর্থ গ্রহণের অনুমতি স্থগিত বা বাতিল করেছে। সরকারের অভিযোগ, কিছু সংস্থা বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এই সপ্তাহে সরকার বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ-এর সংশোধিত বিধিমালা জারি করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফসিআরএ নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী সংস্থাগুলোকে অনুমোদিত তালিকা থেকে তাদের কার্যক্রমের ধরন নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণ। এছাড়া সংস্থাগুলোকে তারা কোন এলাকায় কাজ করবে, সেটিও আগেই উল্লেখ করতে হবে।

বিদেশি অর্থ গ্রহণকারী এনজিওগুলোকে এখন তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বার্ষিক প্রতিবেদনে বিদেশি অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের বিবরণ এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্যও জমা দিতে হবে।

নতুন বিধিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো সংস্থার প্রধান দায়িত্বশীল পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণত সেই সংস্থা বিদেশি অর্থ গ্রহণের যোগ্য হবে না।

ভারত সরকার গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এফসিআরএ আইন কঠোর করেছে। ২০২০ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে এক এনজিও থেকে অন্য এনজিওতে বিদেশি অর্থ স্থানান্তর নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়।

এদিকে বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি আরও বাড়াতে নতুন একটি বিলও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এতে তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহির পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার বিদেশি অর্থায়ন পাওয়া সংগঠনগুলোর ওপর ক্রমেই বেশি নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে, যার ফলে এসব সংস্থার পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমাদের অংশীজন