ঢাকা | ৩০ জুলাই, ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঢাকা | ৩০ জুলাই, ২০২৬ | ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

যাত্রীচাপ কমাতে রেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ

যাত্রীচাপ কমাতে রেলে যুক্ত হচ্ছে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ

যাত্রীদের বাড়তি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিন ও কোচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহ করে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ২ জুন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে রেলওয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইঞ্জিন ও কোচের ঘাটতি। এ কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন রেললাইন চালু হলেও পর্যাপ্ত রোলিং স্টক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংকট নিরসনে নতুন লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভারত থেকে প্রায় ২০০টি ব্রডগেজ কোচ ও লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব যুক্ত হলে ব্রডগেজ রুটে চলমান সংকট অনেকটাই কমবে।

তবে মিটারগেজ অঞ্চলে এখনও চাপ বেশি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে নতুন মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা কর্ড লাইন ও সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নতুন রেললাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

রাজধানীর সঙ্গে আশপাশের জেলার যোগাযোগ সহজ করতে গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ভাঙ্গা এলাকায় কমিউটার ট্রেন সার্ভিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অচল ডেমু ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত যাত্রীসেবা, আধুনিক অপেক্ষাকক্ষ ও বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে।

রেলের নতুন কোচে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সুবিধা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি রেলের অব্যবহৃত জমিতে সৌর-বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে দেশের বিভিন্ন রেলক্রসিং আধুনিকায়ন, আন্ডার-পাস ও ওভার-পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

স্ট্যান্ডিং টিকিট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দাঁড়িয়ে ভ্রমণের ব্যবস্থা সমর্থন করে না। তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে অনেক সময় এ ধরনের টিকিট দিতে হয়। নতুন ইঞ্জিন, কোচ ও ট্রেন যুক্ত হলে এ চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণ নয়; আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ অবকাঠামো ও মানসম্মত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনে পরিণত করা।

আমাদের অংশীজন