ঢাকা | ২৯ জুলাই, ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঢাকা | ২৯ জুলাই, ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-এর শীর্ষ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে একটি সাব-লিজ চুক্তি সম্পাদিত হবে, উন্মোচিত হবে সিইআইজেডের স্লোগান, চালু হবে ওয়ান-স্টপ সেবা এবং আয়োজন করা হবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও।
কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিজুড়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সহযোগিতায় গড়ে উঠছে এই শিল্পাঞ্চল। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত বিমানবন্দরের নৈকট্য একে কৌশলগতভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা এবং বাকি ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা যোগান দেবে সরকার। চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি)-এর আওতায় এই বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

নির্মাণকাজের তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ২৩৫ মিটার জেটি সংযোগ সড়ক, ১ হাজার ১৮১ মিটার প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার সক্ষমতার পানি জলাধার, ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি সক্ষমতার গ্যাস সঞ্চালন লাইন ও নিয়ন্ত্রণ স্টেশন, ২৫ এমএলডি সক্ষমতার বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, দৈনিক ৬০ টন সক্ষমতার কঠিন বর্জ্য সংগ্রহকেন্দ্র, প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র।

বেজার হিসাব অনুযায়ী, এই শিল্পাঞ্চল পুরোপুরি চালু হলে অন্তত এক লাখ মানুষের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি আধুনিক শিল্প ও পরিবহন-লজিস্টিক কেন্দ্র গড়ে উঠবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। ২০১৪ সালে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেজার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বছরের পর বছর থমকে ছিল। শুরুতে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিএইচইসি)-কে উন্নয়নকারী হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হলেও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় কাজ আর এগোয়নি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের খবরে আনোয়ারাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বৈরাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, ‘এই শিল্পাঞ্চল হলে আমাদের এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্বও কমবে। আমরা চাই কাজ দ্রুত শেষ হোক এবং চাকরিতে স্থানীয়রা যেন অগ্রাধিকার পান।’ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।’

ত/জু

আমাদের অংশীজন