বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারি দেশ। তাই দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ তামাক নিয়ন্ত্রণ। এই অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হিসেবে দেশে কাজ করছে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে একযোগে কাজ করতে
ঢাকায় “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে কাজ করছে এমন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও-এর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের হেড অফ প্রোগ্রামস- শাহীন উল আলম, খবর প্রেসবিজ্ঞপ্তি।
প্রেক্ষাপট উপস্থাপনায় উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী বলেন যে, সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোতে চাল, ডাল, তেল, চিনির মতো নিত্যপণ্যগুলোর দাম ৯ শতাংশ থেকে ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও সিগারেটের দাম বেড়েছে গড়ে মাত্র ৭ শতাংশ। ফলে সিগারেট ক্রমেই সহজলভ্য হয়েছে। প্রতি বছর সিগারেটের বিক্রি বৃদ্ধি থেকেই তা বোঝা যায়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন যে, চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে মূলত রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিগারেটের দাম বাড়িয়েছে এবং বর্ধিত দামের ওপর উচ্চ সম্পূরক শুল্কও আরোপ করেছে। ফলে সিগারেটের দাম ও কর বাড়ালে রাজস্বে চাপ পড়ার আশঙ্কাটি যে অমূলক- তা এখান থেকেই বোঝা যায়। অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে সিগারেটের দাম ও কর না বাড়িয়ে শুরুতেই যদি তামাক-বিরোধী নাগরিক সংগঠনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা যেতো তাতে আরও বেশি সুফল পাওয়া যেতো বলে মত দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সচিব আমিনুর রসুল।
এছাড়াও সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে বৃক্ষ নিধন-সহ যে পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়েও সিগারেটে বেশি বেশি করারোপ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
কেয়ার বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, সিগারেটের দাম বেশি করে বাড়িয়ে তার ওপর যথাযথ করারোপ করাই যে সিগারেট ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। তবে আগামী প্রজন্মের নাগরিক এবং অধূমপায়িদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগের তাগিদও দেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টরচন্দন গোমেজ বলেন যে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে শক্তিশালীকরণের যে প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে, সেখানে পাবলিক প্লেস ও ট্রান্সপোর্টে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বাতিল, ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ-সহ যে প্রস্তাবনাগুলো রয়েছে তা খুবই সময়োচিত। একই সাথে দেশে ক্রিয়াশীল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকেও তাদের নিজ নিজ কর্ম এলাকায় ধূমপান নিরুৎসাহিত করার জন্য কার্যকর নীতি-উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- একশন এইড বাংলাদেশের হেড অফ প্রোগ্রামস- কাজী মোরশেদ আলম, সেভ দ্যা চিল্ড্রেনের সিনিয়র অ্যাডভাইজর- বেলাল উদ্দীন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের অ্যাডভোকেসি অ্যাডভাইজর- নবীনুর রহমান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যাডভাইজর- এস. এস. মঞ্জুর রশিদ, কাপায়েং ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার- উজ্জল আজিম এবং এএলআরডি-এর নির্বাহী পরিচালক- শামসুল হুদা। বৈঠকে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিটিএফকে বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর এবং বিসিআইসি-এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান।



