১৩ বছরেও শেষ হয়নি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
২ জুলাই প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখার সময় একটি স্লুইসগেটের সামনে বাঁধ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়টি তার নজরে আসে। এ সময় তিনি প্রকল্প পরিচালকের কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চান এবং কাজের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ ঝুলে থাকায় ভোগান্তির কথা তদন্ত দলের কাছে তুলে ধরেন। পরিদর্শনকালে সচিব প্রকল্পের প্রধান সড়ক, স্লুইসগেট, রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন সেতু এবং আশপাশের অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে নাসিমুল গনি বলেন, প্রকল্পের কাজ কেন নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি, বর্তমান অগ্রগতি কী এবং নির্মাণমান কেমন—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে খুলনা সার্কিট হাউসে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক সভায় অংশ নেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সেখানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, জেলা প্রশাসন ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পাওয়া শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সংশোধন করা হয়। ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ ২৮০ কোটি টাকার সংশোধিত প্রস্তাব একনেক সভায় উত্থাপিত হলে তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও সম্ভাব্য গাফিলতির কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ ও দায় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।



