বয়স মাত্র ৮ বছর, কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় নিজের নাম খোদাই করে ফেলেছে লক্ষ। ইন্টারনেট সংযোগ, ওয়াই-ফাই কিংবা কোনো ক্লাউড সার্ভিসের সহায়তা ছাড়াই কেবল কণ্ঠস্বরের নির্দেশে গল্প শোনাতে সক্ষম একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যন্ত্র বানিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সে। ‘প্রজেক্টস বাই লক্ষ’ নামের উদ্যোগের এই খুদে সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাত্র ৮ মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৭০ টাকার সমান—মূল্যের একটি ক্ষুদ্র মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহার করে গোটা যন্ত্রটি তৈরি করেছে।
যন্ত্রটির মূল উপকরণ একটি ইএসপি৩২-এস৩ মাইক্রোকন্ট্রোলার, সঙ্গে রয়েছে আইএনএমপি৪৪১ মাইক্রোফোন, একটি ছোট স্পিকার এবং এমএএক্স৯৮৩৫৭এ অ্যাম্প্লিফায়ার। এই ক্ষুদ্র হার্ডওয়্যার নিজে থেকেই ছোট ছোট গল্প রচনা করতে পারে, সেগুলো শব্দ করে পড়ে শোনাতে পারে, একইসঙ্গে স্ক্রিনে সাধারণ মানের অ্যানিমেশন প্রদর্শন করতে পারে। এছাড়া ‘প্লে’, ‘পজ’, ‘রিজিউম’ কিংবা ‘নেক্সট স্টোরি’-র মতো সহজ মৌখিক আদেশও বুঝতে পারে এটি।
এই প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে লক্ষ ব্যবহার করেছে ডেভেলপার এসএলভিডিইভি-এর তৈরি একটি ওপেন-সোর্স ভাষা মডেল, নাম ‘টাইনিস্টোরিজ এলএলএম ফর ইএসপি৩২’। মূল সংস্করণটি ইন্টারনেট ছাড়াই মাইক্রোকন্ট্রোলারের মধ্যে গল্প তৈরি করতে সক্ষম ছিল। সেটিকেই লক্ষ পরিমার্জন করে যুক্ত করেছে ভয়েস ইন্টারঅ্যাকশন, প্লেব্যাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অ্যানিমেশন সুবিধা—ফলে তৈরি হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ভয়েস-নিয়ন্ত্রিত ডিভাইস। এই প্রকল্পের প্রোগ্রামিং কোড এখন গিটহাবে সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
একটি প্রদর্শনী ভিডিওতে দেখা যায়, ‘মেক এ ফানি স্টোরি’—এই নির্দেশ দেওয়া মাত্র যন্ত্রটি তাৎক্ষণিকভাবে একটি নতুন মজার গল্প তৈরি করে অ্যানিমেশনসহ তা পড়ে শোনায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় চিপের অভ্যন্তরেই, বাইরের কোনো ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন পড়ে না। ব্যবহারকারী চাইলে ভয়েস কমান্ডেই গল্প থামাতে বা পরের গল্পে যেতে পারেন।
তবে লক্ষ নিজেই স্বীকার করেছে, বর্তমানে যন্ত্রটির ইংরেজি টেক্সট-টু-স্পিচ কণ্ঠস্বর তুলনামূলক সাদামাটা। তাই সামনের দিনগুলোতে কণ্ঠস্বরের গুণগত মান ও স্বাভাবিকতা বাড়ানোই তার প্রধান লক্ষ্য।
জানা গেছে, প্রথাগত নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে লক্ষ অনুসরণ করে একটি নমনীয় অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, যা তাকে ভ্রমণের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে নতুন কিছু তৈরির সুযোগ দেয়। এ কারণেই দিনের বড় একটি অংশ সে কাটায় প্রাপ্তবয়স্ক উদ্যোক্তাদের সান্নিধ্যে।
প্রযুক্তি পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বল্প ব্যয়ের হার্ডওয়্যার এবং ছোট আকারের ভাষা মডেল কীভাবে ইন্টারনেটবিহীন প্রত্যন্ত এলাকাতেও বাস্তবসম্মত এআই সমাধান পৌঁছে দিতে পারে, ৮ বছরের এই শিশুর হাতে তৈরি উদ্ভাবন তারই একটি জোরালো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ত/জু



