ঢাকা | ৩১ জুলাই, ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঢাকা | ৩১ জুলাই, ২০২৬ | ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ফান্ডিং সংকটে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও এসটিআই মোকাবিলার অগ্রগতি

ফান্ডিং সংকটে এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও এসটিআই মোকাবিলার অগ্রগতি
আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বা ফান্ডিং হ্রাস পাওয়ার কারণে এইচআইভি, ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে অর্জিত অগ্রগতি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ জীবন রক্ষাকারী প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
 
সংস্থাটির এক নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিগত এক দশকে দেশগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও তহবিলের ঘাটতি, মানবিক সংকট এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান দিন দিন আরও বাড়ছে।
 
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৩ কোটি ২০ লাখ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছিলেন। ২০১০ সালের পর থেকে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ৪২ শতাংশ এবং এইডস সম্পর্কিত মৃত্যু ৫৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
 
তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এখনো প্রায় ৯০ লাখ মানুষ জীবন রক্ষাকারী এইচআইভি ওষুধের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যের শিকার হওয়া জনগোষ্ঠী—যেমন যৌনকর্মী, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী, হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার এবং কারাবন্দীদের মধ্যে এই সংক্রমণ এখনও বাড়ছে।
 
ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিসের চিত্রটিও মিশ্র। ২০১৫ সালের পর থেকে বার্ষিক হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে এবং হেপাটাইটিস-সি জনিত মৃত্যুও হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও হেপাটাইটিস বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে রয়ে গেছে, যা ২০২৪ সালে আনুমানিক ১৩ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
 
অন্যদিকে, যৌনবাহিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। গর্ভবতী নারীদের সিফিলিস পরীক্ষা এবং এইচপিভি টিকাদানের হার সামান্য বাড়লেও অনেক দেশেই সংক্রমণের হার ক্রমবর্ধমান। একই সাথে গণোরিয়া চিকিৎসার অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
 
ডাব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ২০২৫ সাল জুড়ে আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থায়ন কমে যাওয়ার কারণে একাধিক দেশে এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে 'প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস' যা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়—তার ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু দেশের সরকার এই সেবা বজায় রাখতে নিজস্ব তহবিল বরাদ্দ করলেও প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে যে বেশ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যেই প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস এর ব্যবহার কমে গেছে।
 
এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও এসটিআই চিকিৎসাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সাথে একীভূত করার ওপর জোর দিয়েছে ডাব্লিউএইচও। সংস্থাটির মতে, এটাই সবচেয়ে দ্রুততম উপায়ে সেবার আওতা বাড়ানো এবং টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপায়।
 
প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধক ওষুধ, উন্নত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল হেলথ সিস্টেমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বড় একটি সাফল্য হলো ডাব্লিউএইচও অনুমোদিত 'লেনাকাপ্যাভির' নামক বছরে মাত্র দু’বার গ্রহণযোগ্য ইনজেকশন। এটি বর্তমানে ১০টি দেশে চালু করা হচ্ছে এবং আরও ১৪টি দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
 
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রস্পারিটি অ্যান্ড ওয়েল-বিং হাবের পরিচালক মনদীপ ধালিওয়াল এই ওষুধকে একটি 'গেম চেঞ্জার' বা যুগান্তকারী আবিষ্কার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বছরে মাত্র দু’বার ইনজেকশন হিসেবে গ্রহণযোগ্য এই ওষুধটি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন সংক্রমণ রোধ করে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
 
আগামী পাঁচ বছরে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সমন্বিত ও স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তাগিদ দিয়েছেন ডাব্লিউএইচও প্রধান।

আমাদের অংশীজন