২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়, বহু আহত হন এবং বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এই অস্থিরতার মধ্যেও ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থিত টেক্সটাউন গ্রুপ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়, যা ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
টেক্সটাউনের কল্যাণ কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, “অস্থিরতার সময় আমাদের শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ ছিল। শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা মাত্র তিন থেকে চার দিন কারখানা বন্ধ রেখেছিলাম, তবে ওই দিনগুলোর মজুরি সব কর্মীকে পরিশোধ করা হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২৯০০ জন শ্রমিক কর্মরত। কারখানাটিতে একটি কার্যকর অংশগ্রহণ কমিটি (পিসি) রয়েছে, যেখানে ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক পক্ষের ছয়জন করে মোট ১২ জন সদস্য দুই মাস অন্তর বৈঠক করেন। কমিটির সদস্য মহসিন আলী জানান, অস্থিরতার সময় তারা শ্রমিকদের লিখিত দাবি কল্যাণ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন, যা পরবর্তীতে কমপ্লায়েন্স বিভাগ পর্যালোচনা করে প্রতিশ্রুতি দেয়। কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের কর্মী আইরিন বেগম জানান, ব্যবস্থাপনা তাদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে ছুটি অনুমোদন করেছিল।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান আবু জাফর মো. শালেহ বলেন, ২০১৭ সালে আইএলও-আইএফসি’র “বেটার ওয়ার্ক বাংলাদেশ (BWB)” কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে কারখানার পিসি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সাত বছর ধরে বেটার ওয়ার্ক অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, শিল্প সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র সহযোগিতা, সংকট ব্যবস্থাপনা ও হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
মানবসম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক আব্দুল আওয়াল আজাদ বলেন, “আমরা বিজিএমইএ-র নির্দেশনা অনুসরণ করে শ্রমিকদের দাবি পূরণে কাজ করেছি। কার্যকর পিসি সময়মতো শ্রমিকদের প্রয়োজন ও অভিযোগ চিহ্নিত করতে সাহায্য করেছে।” তিনি আরও বলেন, বেটার ওয়ার্কের সহযোগিতায় তার নিজের মানসিকতাতেও পরিবর্তন এসেছে — সমস্যা এড়িয়ে না গিয়ে তার মূল কারণ খুঁজে সমাধানে গুরুত্ব দিতে শিখেছেন তিনি।
শালেহর ভাষায়, “শ্রমিক ও মালিকপক্ষ যখন নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকে, তখনই সংঘাত তৈরি হয়। সংলাপই কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতার পথ দেখায়।”
ত/জু



