জলবায়ু সমাধানে তরুণদের সবুজ দক্ষতা

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবুজ দক্ষতাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (বিসিসিটি)-এর উদ্যোগে ‘গ্রিন স্কিলস ফর নেক্সট জেনারেশন: ইউনিভার্সিটিজ, টিভিইটি অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারটি সিওপি৩১-এর প্রস্তুতিমূলক ‘রোড টু আন্তালিয়া’ উদ্যোগের অংশ। এতে ১২টি দেশের প্রতিনিধিসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সভায় ৩৭৪ জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পাঠ্যক্রমে জলবায়ু বিষয় অন্তর্ভুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিসিসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব কাজী রওনাকুল ইসলাম। তিনি জলবায়ু অর্থায়ন ও জলবায়ু প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুন্নবী, ইউনেস্কো চেয়ার ইন এডুকেশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, গ্রিন স্কিলস অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশনস।

ওয়েবিনারে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা এবং ন্যায্য রূপান্তর বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

উল্লেখযোগ্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রিন্সেস আবির, ইন্দোনেশিয়ার ড. মালিকি, গ্রিনট্র্যাক এডুকেশনের এমিলি, নেপলস-পার্থেনোপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দারিও, ড. সায়রা হাশমি, ইউনেস্কোর মারিনা আদেয়ার, অধ্যাপক পিটার ওয়েলস, ড. রিচার্ড ইংগ্রাম, ড. আফনান, চিলির কারিনা এবং ইডুকোর তাজিন হুসাইন।

ওয়েবিনারে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও সবুজ অর্থনীতিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং ন্যায্য সবুজ রূপান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তরুণদের জলবায়ু কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় গ্লোবাল ইউথ ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (গেইকান) এবং গ্রিন বুক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিষয় উঠে আসে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের জলবায়ু নেতৃত্ব, জ্ঞান বিনিময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে সবুজ দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বিসিসিটি বিশ্বাস করে, সবুজ দক্ষতাসম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা, জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন