কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (এসআরএইচআর) এগিয়ে নিতে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে এবং প্রযুক্তি-সহায়তাপ্রাপ্ত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘বার্ষিক স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট মিটিং’ সফলভাবে আয়োজন করেছে সেরাক-বাংলাদেশ (SERAC-Bangladesh)। অ্যামপ্লিফাই চেঞ্জের অর্থায়নে এবং রেডঅরেঞ্জের সহায়তায় ‘ইয়ুথ শেয়ারনেট’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও তরুণ নেতারা অংশ নেন।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন সেরাক-বাংলাদেশের পরিচালক (কর্মসূচি) মো. সেলিম মিয়া।
প্রমাণভিত্তিক আলোচনা, জ্ঞান বিনিময় ও কিশোর-তরুণদের সামনে আসা উদীয়মান সমস্যাগুলো নিয়ে সম্মিলিত পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে এই সভা। আলোচনায় উঠে আসে এমআইসিএস ২০২৫-এর সাম্প্রতিক জাতীয় তথ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তি-সহায়তাপ্রাপ্ত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এবং কিশোর-কিশোরীদের সুস্থতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসম্মত এসআরএইচআর তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও জেন্ডার-সংবেদনশীল পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা।
প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রধান অর্জন ও অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হাসান। তিনি ইয়ুথ শেয়ারনেট প্রকল্পের বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের উদ্যোগ এবং নীতি অ্যাডভোকেসি ও বহুখাতভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারে কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) পরিচালক (আইইএম) মো. তসলিম উদ্দিন খান এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসিন। এ ছাড়া তরুণ প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
প্রাণবন্ত আলোচনা ও অংশীজনদের মতবিনিময়ে প্রমাণভিত্তিক নীতি ও কর্মসূচি জোরদার করতে সরকার, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী ও তরুণ নেটওয়ার্কগুলোর টেকসই সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা একযোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, প্রযুক্তি-সহায়তাপ্রাপ্ত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশের প্রতিটি কিশোর-কিশোরী ও তরুণ যেন সঠিক তথ্য, মানসম্মত সেবা, নিরাপদ ডিজিটাল পরিসর এবং বিকশিত হওয়ার অর্থবহ সুযোগ পায়।
সভার সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মো. সেলিম মিয়া। তিনি সবার মূল্যবান অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের সুস্থতার জন্য সহযোগিতামূলক ও তরুণ-কেন্দ্রিক অ্যাডভোকেসি এগিয়ে নিতে সেরাক-বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ত/জু



