বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের সমাপনী; সাত জেলায় ১৭ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, কাজ পেয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের পেশাগত দক্ষতা, জীবনদক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ইউনিসেফ ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশ।
২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাতটি জেলায় পরিচালিত এই কর্মসূচি প্রান্তিক ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের পেশাগত ও জীবনদক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ১৭ হাজার ৯৩৪ জনের মধ্যে ১৭ হাজার ৫০৫ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং ১৫ হাজার ৯৫ জন কর্মসংস্থান পেয়েছেন।
সরাসরি শিক্ষার্থীদের সহায়তার পাশাপাশি কোইকার সহযোগিতায় ইউনিসেফ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। এর মাধ্যমে বহুমুখী শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক ড. ফারুক আহমেদ, কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ। এ ছাড়া সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন সহযোগী, নিয়োগকর্তা, প্রশিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং কর্মসূচির তরুণ স্নাতকরাও যোগ দেন।
বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে ব্র্যাক, ইএসডিও ও ইউসেপের পাশাপাশি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অবদানও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া রাজিয়া সুলতানা নিজের জীবনের পরিবর্তন ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন। কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিসেফের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ বলেন, “একজন মেয়ে যখন দক্ষতা অর্জন করে, তখন সে নিজের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। নিজের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে সে নিজের কথা বলার শক্তি পায়।”
বাংলাদেশ সরকার, কোইকা ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করে বিকল্প শিক্ষার সুযোগ আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রতিটি কিশোর-কিশোরীকে, বিশেষ করে প্রতিটি মেয়েকে, শেখার, আয় করার ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দিতে ইউনিসেফ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়।
ত/জু



