শীত আসার আগেই ঠোঁটের যত্ন নিন

শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দেয়। আবহাওয়ার পরিবর্তন, শরীরে পানির ঘাটতি, বারবার ঠোঁট চাটা এবং কিছু প্রসাধনীর প্রভাবে এই সমস্যা বাড়তে পারে। তাই শীত পুরোপুরি আসার অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।

মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক পাতলা এবং এখানে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি প্রায় নেই। ফলে ঠোঁট দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায় এবং যত্নের অভাবে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

কেন ফাটছে ঠোঁট?
আবহাওয়ার পরিবর্তন: শুষ্ক বাতাস, কম আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামায় ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়।

বারবার ঠোঁট চাটা: লালার পানি শুকিয়ে গেলে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়; লালার এনজাইমও ত্বককে জ্বালা করতে পারে।

পানির ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে ঠোঁটসহ মুখের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হতে পারে।

প্রসাধনী ও টুথপেস্ট: সুগন্ধি, স্বাদযুক্ত বা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত লিপস্টিক, লিপবাম ও টুথপেস্ট অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি: আয়রন, ভিটামিন বি১২, বি৯ ও বি২-এর ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের কোণে ফাটল বা অ্যাঙ্গুলার কাইলাইটিসের সম্পর্ক থাকতে পারে।

ত্বকের রোগ বা সংক্রমণ: দীর্ঘদিনের ফাটা ঠোঁট, লালচেভাব, চুলকানি বা ক্ষতের পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণও থাকতে পারে।

ঠোঁট ফাটা কমাতে করণীয়
নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার করুন: সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি বা সাধারণ লিপবাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করুন।

ঠোঁট চাটা ও চামড়া তোলা বন্ধ করুন: জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা ক্ষত ও জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। তবে শুধু পানি পান নয়, বাইরে থেকে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখাও জরুরি।

রোদ থেকে সুরক্ষা নিন: বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর পুনরায় লাগান।

জ্বালা সৃষ্টিকারী পণ্য পরিহার করুন: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি বা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত পণ্য ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। জ্বালা বা শুষ্কতা বাড়লে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
সাধারণ যত্নের পরও ফাটল না কমলে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ঠোঁটে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ, ক্ষত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল দেখা দিলে এর অন্তর্নিহিত কারণ—পুষ্টির ঘাটতি, অ্যালার্জি বা সংক্রমণ—নির্ণয় করা জরুরি।

ঠোঁট ফাটাকে সামান্য সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার, ঠোঁট চাটার অভ্যাস পরিহার এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী প্রসাধনী এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন