কম খরচ, কম পরিশ্রমে ভালো ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাদাম চাষে চাষিদের আগ্রহ। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও বেলে-দোআঁশ মাটির এলাকায় চীনাবাদাম চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক অর্থকরী ফসল হয়ে উঠেছে।
নরসিংদীর রায়পুরা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের মতো এলাকায় বাদামের আবাদ বেড়েছে। উৎপাদিত বাদামের মান ভালো হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদাও বাড়ছে।
বাদাম চাষে সাধারণত তুলনামূলক কম সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয়। চরাঞ্চলের বালুমিশ্রিত ও দোআঁশ মাটি এ ফসলের জন্য উপযোগী, ফলে অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
নরসিংদীর চরাঞ্চলে এক বিঘা জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচে ৩৫-৪০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের লাভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রংপুর কৃষি অঞ্চলে চলতি খরিফ-১ মৌসুমে পাঁচ জেলার কৃষকেরা ৯ হাজার ৯৩৮ টন বাদাম উৎপাদন করেছেন। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৬,২০০ থেকে ৬,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, এক একর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ বাদাম উৎপাদন করে খরচ বাদে গড়ে এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। মাতামুহুরীর চরে প্রতি একরে খরচ প্রায় ৬৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, ফলে লাভ হচ্ছে প্রায় ৭২ হাজার টাকা।
বাদামের খোসা ও পাতা গরুর খাদ্য এবং রান্নার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার হয়। এতে ফসলের বর্জ্যও কাজে লাগে, ফলে সামগ্রিক লাভ আরও বাড়ে।
তবে সম্প্রসারণের জন্য উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, কারিগরি পরামর্শ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ন্যায্য দামে বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে আরও বেশি কৃষক বাদাম চাষে উৎসাহিত হবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ত/জু



