লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে বারোমাসি সজিনা। এর চাহিদা ও উচ্চ বাজারমূল্য পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বুরো বাংলাদেশ খুলনার চারটি শাখার মাধ্যমে ৫০০ সদস্যের মধ্যে বারোমাসি সজিনার ওডিসি-৩ জাতের ২,৫০০টি চারা বিতরণ করছে।
ওডিসি-৩ জাতের সজিনা সারা বছরই ফলন দেয়। গাছে সব সময় ফুল ও কচি সজিনা দেখা যায়, ফলে বছরজুড়ে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
ওডিসি-৩ জাতের সজিনা খরা সহনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং কম পানি ও সারে চাষ করা যায়। বীজ বপনের ৬ মাসেই ফসল আসে এবং প্রতি গাছে গড়ে ৩০০টি ফল পাওয়া যায়।
এ জাতের ফল মাংসল ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। প্রতি একরে বছরে আনুমানিক ২৫-৩০ টন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি সজিনা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরায় ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা ও সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে এই সজিনার চাহিদা ব্যাপক।
সজিনার পাতা শুকিয়ে পাউডার তৈরি করেও বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। ঝিনাইদহে কাচা পাতা প্রতি কেজি ৮-১০ টাকা এবং শুকনো পাতা প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বুরো বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সজিনা চাষ পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ তৈরি করবে।
সজিনা গাছের ডাঁটা ও পাতা দুটোই বিক্রি করা যায় এবং এতে তেমন খরচ নেই। এ ছাড়া সজিনা গাছের সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, মশুরির মতো সাথি ফসল চাষ করা যায়।
উপকূলীয় এলাকায় সজিনা চাষ সম্প্রসারিত হলে কৃষকের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তাদের আয়ও বাড়বে।
ত/জু



