হারিয়ে যাচ্ছে ২০০ বছরের ঐতিহ্য কাঠের চাকা শিল্প

পাবনার ঈশ্বরদীর আরামবাড়িয়া গ্রামে বিলুপ্তির পথে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প। একসময় ৫০টি কারখানায় দেড় শতাধিক কারিগর কাজ করলেও এখন টিকে আছে মাত্র পাঁচটি কারখানা। শেষ প্রজন্মের পাঁচ প্রবীণ কারিগরের হাতেই বেঁচে আছে এ শিল্প।

বাবলা কাঠের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ক্রেতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্য। শিল্পটি বাঁচাতে সরকারি সহায়তার দাবি স্থানীয়দের।

পদ্মা নদীর তীরে সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া ও পালিদাহ এলাকাকে বলা হতো ‘চাকার গ্রাম’। একসময় এই অঞ্চলে প্রায় ৭০০টি চাকা তৈরির কারখানা ছিল এবং প্রতিদিন গড়ে ৬০০ জোড়া কাঠের চাকা তৈরি হতো।

আরামবাড়িয়ার তৈরি চাকার মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও ক্রেতারা এখানে আসতেন। হাজার হাজার মানুষ এই পেশার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, যান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্য, ভালো রাস্তাঘাট এবং উপযুক্ত কাঠের অভাবের কারণে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির চাকা শিল্প বিলুপ্তির পথে।

চাকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্ত ও টেকসই কাঠ (যেমন বাবলা, শিশু বা মেহগনি) পাওয়া এখন কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। লাভজনক না হওয়ায় বংশপরম্পরায় কাজ করা কাঠমিস্ত্রি ও কারিগররা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

বর্তমানে কর্মরত পাঁচ কারিগর—বিপদ চন্দ্র সরকার, অরুন সরকার, মো. ইনু, হাসেম আলী ও মাজদার হোসেন—তাঁদের পরম মমতায় বাঁচিয়ে রেখেছেন বহু বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যকে।

কারিগরদের ভাষ্য, তাঁদের বাপ-দাদারা বিগত প্রায় ২০০ বছর ধরে এই পেশাকে লালন করে আসছেন। বর্তমানে কর্মরত এই পাঁচ কারিগরও ৪০-৫০ বছর ধরে পেশাটি আঁকড়ে রেখেছেন।

শিল্পটি বাঁচাতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, বাবলা গাছের চারা রোপণ, আর্থিক প্রণোদনা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরা।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন