নওগাঁর পাটনিটলা উপজেলার জামালপুর গ্রামের কমিউনিটি-চালিত সামষ্টিক আবাসন উদ্যোগ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক ‘কালেকটিভ হাউজিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ জিতেছে। ভূমিহীনতা ও আবাসন সমস্যা মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের স্বীকৃতিতে এ পুরস্কার পেয়েছে উদ্যোগটি।
২৬ অক্টোবর ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফোরামে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। থাইল্যান্ডের সমাজ উন্নয়ন ও মানবনিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে পুরস্কারটি প্রদান করা হয়।
‘প্ল্যাটফর্ম অব কমিউনিটি অ্যাকশন অ্যান্ড আর্কিটেকচার’ (পোকা)-এর মাধ্যমে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহায়তায় জামালপুরের গল্পটি জমা দেওয়া হয়। ‘কমিউনিটির সামষ্টিক উদ্যোগ’ বিভাগে নির্বাচিত এ উদ্যোগের হয়ে স্থপতি ফারিবা ইসলাম পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
পুরস্কার বিতরণীতে থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়োৎসানান ওংসাওয়াত এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাটের নির্বাহী পরিচালক আনাক্লাউদিয়া রসবাখ উপস্থিত ছিলেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আবাসন ও উন্নয়ন উদ্যোগের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
২০০৯ সাল থেকে জামালপুর গ্রামের হিন্দু, মুসলিম ও আদিবাসী—মোট ১২৩ পরিবার অংশগ্রহণমূলক কর্মপদ্ধতি বা পিএআর ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের পথ খুঁজে বের করছে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাঁরা ভূমি অধিকার নিশ্চিতে অগ্রগতি অর্জন করেন।
এরপর ৪৯টি ভূমিহীন পরিবার নিজেদের বাড়ি নির্মাণ করে। সম্প্রতির সঞ্চয়, কৃষি থেকে প্রাপ্ত আয়, কমিউনিটি পুকুর এবং অংশীদারত্বের মাধ্যমে আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাসীরা।
প্রতিটি পরিবার কমিউনিটি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে। এই সঞ্চয় ও যৌথ আয় ব্যবহার করে আবাসন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা হয়।
নিয়মিত সমাবেশের মাধ্যমে গ্রামবাসীরা অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শিশু বিয়ে রোধ—সব বিষয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এ উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, স্থানীয় নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধ টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।
দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের পিএআর ইউনিটের মো. সোহেল রানা বলেন, “জামালপুরের কমিউনিটি গবেষক ও বাসিন্দাদের এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য গর্বের। ভূমি অধিকার অর্জন, ঘর নির্মাণ, সম্মিলিত সঞ্চয় ও যৌথ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা প্রমাণ করেছেন—স্থানীয় মানুষই নিজেদের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারেন।”
আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি কমিউনিটি-চালিত সমাধানের শক্তি তুলে ধরেছে এবং বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রামের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ত/জু



