দুর্নীতির অভিযোগে উদ্দীপনের পর্ষদ বরখাস্ত

দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়ার পর বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘উদ্দীপন’-এর পরিচালনা পর্ষদ সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনা ও নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের জন্য অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২৩ আগস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, উদ্দীপনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ এইচ এম আফজাল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (সিইও) সৈয়দ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত ১৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটি ১৪ জুলাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সংস্থাটির কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২০ আগস্ট উদ্দীপনের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্ত এবং সংস্থাটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ‘স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১’-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী উদ্দীপনের কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

একই অধ্যাদেশের ৯(২) ধারা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মিজানুর রহমানকে তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনায়, তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীকে সংস্থার দায়িত্ব বুঝে নিয়ে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে সংস্থার কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেবে।

উদ্দীপনের কার্যক্রম

রাজধানীর আদাবরের রিং রোডে অবস্থিত ‘উদ্দীপন’ ১৯৮৬ সালের ২৭ এপ্রিল সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি দেশের প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ঋণসহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংস্থাটি।

তদন্তে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এবার সংস্থাটির পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন এনে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন