ঢাকা | ২৯ জুলাই, ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঢাকা | ২৯ জুলাই, ২০২৬ | ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সচেতনতার আহ্বান

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সচেতনতার আহ্বান

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কর্মজীবনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে। লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের আয়োজনে গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় মোট ৪১ জন অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কৃষ্ণ দেবনাথ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লিগাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড লবি বিভাগের পরিচালক অ্যাডভোকেট দীপ্তি সিকদার। সভা সঞ্চালনা করেন লিগাল এইড অফিসার সিননোমে মারমা।

আলোচনায় বিচারপতি কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, পরিবার ও কর্মক্ষেত্র—দুই ক্ষেত্রেই নারীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পারিবারিক পরিসরে সহিংসতার শিকার হলে করণীয় আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বিয়ে নিবন্ধনের গুরুত্ব, যৌতুক প্রথার সামাজিক ও আইনি প্রভাব এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিষয়ে নারীদের সম্যক ধারণা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন এবং কর্মস্থলের নিয়ম মেনে চলা নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি গঠিত থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে সেখানে অভিযোগ জানানো যায়। শিক্ষার্থীদের আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম তাঁর বক্তব্যে বিয়ের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী কাবিননামা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে জানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে অভিযোগ কমিটি গঠনের বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং নারী অধিকার রক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান হেল্পলাইন সেবাগুলো সম্পর্কে জেনে তা অন্যদের মধ্যেও প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ত/জু

আমাদের অংশীজন