শিক্ষা বাঁচাতে পারে মেয়ের ভবিষ্যৎ

বিবাহ ও শিক্ষা—এই দুটি পথ মেয়েদের দুটি আলাদা ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে যেসব মেয়ে, যাদের শিক্ষার সুযোগ সবচেয়ে কম। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধ করে প্রতিটি মেয়েকে শিক্ষার পথে এগিয়ে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।

বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৪৭.২ শতাংশ ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়েছে। বাল্যবিবাহ মেয়েদের স্কুল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্বের ঝুঁকি বাড়ায় এবং জীবনের সম্ভাবনা সংকুচিত করে।

বাল্যবিবাহ শুরু হয় প্রধানত যেসব মেয়ে দরিদ্র পরিবার, গ্রামীণ এলাকা বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং যারা বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।

বাংলাদেশে বিবাহিত কিশোরীদের ৮৭ শতাংশ বিদ্যালয়ের বাইরে। মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করা মেয়েদের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার শিক্ষাহীন মেয়েদের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কম এবং উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন মেয়েদের মধ্যে এ হার ৮০ শতাংশ কম।

বাল্যবিবাহ মেয়েদের শৈশব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ—সবকিছুকেই ঝুঁকিতে ফেলে। অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েদের ঘরকন্না ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হতে হয়, ফলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া বাল্যবিবাহের সঙ্গে ঘরোয়া সহিংসতা, মানসিক চাপ, দারিদ্র্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিও জড়িয়ে যায়।

মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে সহায়তা করা, স্কুল থেকে ঝরে পড়া বন্ধ করা এবং বাল্যবিবাহ অনুমোদনকারী আইনের ফাঁক বন্ধ করা জরুরি।

পরিবার, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, জীবনদক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দিলে তারা নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়তে পারবে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন