কপ৩১-এর আগে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে সিভিল সোসাইটির অবস্থানপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর রাজধানীর সিরড্যাপ মিলনায়তনে ‘পিপল-লেড পলিসি: বাংলাদেশ পজিশন অ্যাট কপ৩১’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এই অবস্থানপত্র উন্মোচন করা হয়।
জলবায়ু বিষয়ে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, সিভিল সোসাইটি, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষা-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগে অবস্থানপত্রটি তৈরি হয়েছে।
অবস্থানপত্রে ১৩টি বিষয়ে অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণমুক্ত ও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আলোচনায় সরকার-বেসরকারি খাতের সমন্বয়, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষার সঙ্গে শিল্প নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ আবাসন।
এ ছাড়া নারী, তরুণ ও জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং শহরের অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ মোকাবিলার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান যৌথ ও জোরালোভাবে উপস্থাপনে সুশীল সমাজ ও জলবায়ু এনজিওগুলোকে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি উন্নত দেশগুলোর প্রতি জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও কমিউনিটির জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ তৈরি ও পুনরুদ্ধার, নদী-খাল খনন, বৃহৎ বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং চক্রাকার অর্থনীতির উদ্যোগ নিচ্ছে।
সংলাপে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী আন্তর্জাতিক আলোচনায় বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ও স্পষ্ট পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শিল্প নিঃসরণ এবং ন্যাকমের নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মুনজুরুল হান্নান খান জলবায়ু অর্থায়ন, নীল অর্থনীতি ও শহুরে তাপপ্রবাহে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।
সংলাপ পরিচালনায় অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আরও ঋণের বোঝায় ফেলে রাখা যাবে না। তাই অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কপ৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো এমন জলবায়ু নীতি ও অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা ন্যায্য, জবাবদিহিমূলক এবং জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল।
ত/জু



