ইরানে আবার যুদ্ধের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ও সম্ভাব্য বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত, বলছে দুই মার্কিন কর্মকর্তা। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এ অভিযানের জন্য অঞ্চলটিতে যথেষ্ট সৈন্য ও সামরিক সম্পদ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড—সেন্টকম—এর নেতারা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক কেন্দ্রসহ বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর মূলত একটি পরিকল্পনাভিত্তিক সংস্থা; প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী সামরিক বিকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন করা তাদের কাজ।

সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য অভিযানটি কেবল রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা দ্রুত পুনর্নির্মাণযোগ্য স্থাপনা ধ্বংসের মতো সীমিত অভিযান নাও হতে পারে। বরং এটি আগের অভিযানের চেয়ে অনেক বড় পরিসরের হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। ৫ মে সেই অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

ওই অভিযান শেষের পর থেকে ইরানে বড় ধরনের নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানো হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক মাসের এই বিরতিকে তাঁরা পরবর্তী সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছেন।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরান ও হুথি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের নতুন হামলার সম্ভাবনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল প্রথমে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করলে তেহরান ও হুথিরা তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস থেকে ইতিমধ্যেই কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অন্য দূতাবাসগুলোতেও কর্মীসংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত ২৫ অক্টোবর হরমুজ প্রণালী পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, প্রণালীর প্রধান চলাচলপথগুলো ইরানি সমুদ্র-মাইনমুক্ত রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী বাণিজ্যিক নৌচলাচল অব্যাহত রাখতে কাজ করছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের সহায়তায় ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালীটি পাড়ি দিয়েছে এবং গ্রীষ্মের পর থেকে ১.৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্পের নির্দেশ বছর শেষের মধ্যে যেকোনো সময় আসতে পারে; তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তা আসার সম্ভাবনা বেশি। তবে অতীতে ট্রাম্প কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে আসার নজির রয়েছে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে কূটনৈতিক সমাধান না এলে হরমুজ প্রণালীঘেঁষা উত্তেজনা ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন