তারুণ্যেই টাক: কারণ ও প্রতিকার

চুল ত্বকেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে কম বয়সেই মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা টাক পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে কিছু চুল ঝরে পড়লেও তা ১০০টির বেশি হলে তা উদ্বেগের বিষয়। এর পেছনে রয়েছে একাধিক শারীরিক ও পরিবেশগত কারণ।

কেন অল্প বয়সেই চুল পড়ে

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তরুণ বয়সে চুল পড়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হলো হরমোনজনিত পরিবর্তন। পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন রূপান্তরিত হয়ে ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’ তৈরি করে, যা চুলের ফলিকল সংকুচিত করে ফেলে এবং ধীরে ধীরে চুল পাতলা হতে শুরু করে।

এ ছাড়া পড়াশোনা কিংবা কর্মজীবনের বাড়তি চাপ ও ঘুমের ঘাটতিও চুল পড়ার অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে সৃষ্ট ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক অবস্থায় হঠাৎ করেই প্রচুর পরিমাণ চুল ঝরে যেতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে এর যোগসূত্র। প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের ঘাটতি এবং নগরজীবনের দূষণ ও ‘হার্ড ওয়াটার’ ব্যবহার চুলের গোড়া ধীরে ধীরে দুর্বল করে তোলে।

প্রতিরোধে যা করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার এবং নিয়মিত নারকেল বা ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে স্ক্যাল্প মাসাজ রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, সয়াবিন, পালং শাক ও বাদামের মতো কেরাটিন-বান্ধব খাবার রাখার পরামর্শও দেন তারা।

এ ছাড়া ঘরোয়া যত্নে ডার্মারোলার ব্যবহার স্ক্যাল্পে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে সহায়ক হতে পারে। কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি ও আমলকীর মতো প্রাকৃতিক ‘ডিএইচটি ব্লকার’ খাবারও হরমোনজনিত চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ধূমপান পরিহার এবং প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা, কারণ ঘুমের সময়ই শরীরের কোষ পুনর্গঠিত হয়।

চিকিৎসা পদ্ধতি

সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ, লোশন বা বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। বংশগত কারণে সৃষ্ট অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়ার ক্ষেত্রে মেসোথেরাপি ও পিআরপি-র মতো আধুনিক চিকিৎসাও রয়েছে, যদিও এতে একাধিক সেশন ও সময় প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের চিকিৎসায় ধৈর্য ধরতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন