বাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ বুনো অর্কিড আজ বিলুপ্তির মুখে। বাংলাদেশে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ প্রজাতির অর্কিডের অস্তিত্ব থাকলেও এর মধ্যে ১০০টিরও বেশি প্রজাতি এখন বিলুপ্তির পথে। ক্রমাগত বনভূমি উজাড় এবং গাছপালা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বুনো অর্কিড একধরনের পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ ও বুনোফুল, যা পাহাড় বা ঘন বনাঞ্চলে বেশি জন্মে। তবে এরা খাদ্যের জন্য আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল নয়; নিজেই পানি, বাতাস, ধুলাবালি ও আলো থেকে খাবার তৈরি করে। আকর্ষণীয় বর্ণ, শৈল্পিক গড়ন, মিষ্টি সুগন্ধ ও দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল এই ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য ফুলের তুলনায় গঠন, আকার ও আকৃতিতে এটি অনেকটাই ভিন্ন। ফুলগুলোর গঠন এতটাই নিখুঁত যে দেখে মনে হয় যেন কৃত্রিম ফুলের সম্ভার।
বিশ্বব্যাপী অর্কিডের প্রায় ৯০০ গণ এবং ৩০ হাজারের বেশি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে বুনো অর্কিড মূলত চিরহরিৎ ও বৃষ্টিবহুল বনাঞ্চলে দেখা যায়। চিরসবুজ বন, শালবন, ম্যানগ্রোভ বন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে এগুলো বেশি জন্মে।
প্রথমবার ফুল ফুটতে সাধারণত তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস ফুল ফোটার উপযুক্ত সময়। তবে কিছু প্রজাতির ফুল সারা বছরই ফোটে।
বুনো অর্কিডের ঔষধি গুণও রয়েছে। বলা হয়, ডেনড্রোবিয়াম প্রজাতির কাণ্ডে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান বিদ্যমান। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধিও তৈরি হয় বুনো অর্কিড থেকে।
পরিবেশগত দিক থেকেও এ উদ্ভিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফুল ও মধু বিভিন্ন পাখি ও কীটপতঙ্গের খাবারের উৎস। তাই এ বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা, উপযুক্ত পরিবেশ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বুনো অর্কিড আমাদের নান্দনিক পরিবেশের অনিন্দ্যসুন্দর উপাদান হয়ে উঠতে পারে।
ত/জু



