সদর, মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও পীরগঞ্জে কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে কলার আবাদ; ঢাকা-চট্টগ্রামে যাচ্ছে প্রতিদিন, কৃষকের আয় ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি।
উত্তরের জনপদ রংপুরে এখন ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে সাগর কলা। বিশেষ করে সদর, মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও পীরগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক বছরে এই কলার আবাদ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ধান, তামাক, আলু ও ভুট্টার মতো ফসলের পাশাপাশি এখন কলা হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের কৃষকদের নতুন ভরসা।
এসব এলাকার বাগানে গেলে চোখে পড়ে, গাছে গাছে ঝুলছে কলার কাঁদি। কাঁদির ভারে যেন গাছ ভেঙে না পড়ে, সে জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে গাছগুলো ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। সারি সারি সবুজ গাছ আর তাতে ঝুলে থাকা কলার কাঁদি এখন রংপুরের গ্রামীণ জনপদের পরিচিত দৃশ্য।
কৃষকদের কাছে কলা চাষের আকর্ষণ বাড়ার অন্যতম কারণ বাজারের চাহিদা। রংপুরের এই কলা প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। দূরের বাজারে নিয়মিত সরবরাহ থাকায় কৃষকরা ভালো আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে নতুন নতুন কৃষক কলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এবং আবাদের পরিধি বাড়ছে।
কলা শুধু কৃষকের আয়ই বাড়াচ্ছে না, এটিকে ঘিরে গড়ে উঠছে একটি পুরো বাজারব্যবস্থা। বাগান থেকে কলা কাটা ও সংগ্রহ, পরিবহন, কেনাবেচা এবং বাজারজাতকরণের নানা ধাপে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান। এতে শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট মানুষও উপকৃত হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে সাগর কলা এখন শুধু একটি ফল নয়, বরং রংপুরের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কলা চাষ রংপুরের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত/জু



