স্কুলছাড়া হচ্ছে শিশু, ঝুঁকিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

দীর্ঘ ১৪ বছর কমার পর প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার আবার বেড়েছে। ২০২৪ সালে এ হার ১৬.২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ১৩.১৫ শতাংশের তুলনায় ৩.১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি ২০২৪-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

২০১৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭.৯ শতাংশ। ২০২০ সালে তা কমে ১৭.২ শতাংশ, ২০২১ সালে ১৪.১৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ১৩.৯৫ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ১৩.১৫ শতাংশে নেমে আসে। তবে ২০২৪ সালে হার আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১৬.২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বলছে, ২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৯.৮ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে এ হার ক্রমাগত কমে ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল; কিন্তু ২০২৪ সালে সেই অর্জনে ধাক্কা লেগেছে।

২০২৪ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি—৭.৯ শতাংশ। তৃতীয় শ্রেণিতে এ হার ৫.৯ শতাংশ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২.৪ শতাংশ, পঞ্চম শ্রেণিতে ০.৪৬ শতাংশ এবং প্রথম শ্রেণিতে ০.৬ শতাংশ।

আগের বছর ২০২৩ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার ছিল ৪.৫ শতাংশ এবং তৃতীয় শ্রেণিতে ৩.৯ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৪ সালে বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে ঝরে পড়ার হার লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।

২০২৪ সালে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার ১৯.০২ শতাংশ, যা ২০২৩ সালের ১৪.১২ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার ১২.৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩.৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতিজনিত আর্থিক চাপ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবারের আয়ে সহায়তার জন্য শিশুদের কর্মে যুক্ত হওয়া, মৌসুমি অভিবাসন এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ঝরে পড়ার প্রধান কারণ।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষে টিকে থাকার হার ২০২৩ সালে ৮৬.৯৩ শতাংশ ছিল, যা ২০২৪ সালে কমে ৮৩.৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছরে এ হার কমেছে ২.৯৫ শতাংশ।

ছেলেদের টিকে থাকার হার ২০২৩ সালের ৮৫.৯১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ৮১.২৩ শতাংশে নেমেছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার ৮৭.৮৩ শতাংশ থেকে কমে ৮৬.৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ঝরে পড়া রোধে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো, স্কুলভিত্তিক খাদ্য সহায়তা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিকারমূলক শিক্ষা জরুরি।

একই সঙ্গে শিক্ষক ঘাটতি পূরণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণের মান বাড়ানো, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের আগেভাগে চিহ্নিত করে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন