বাংলাদেশে বারি উদ্ভাবিত সবুজ মাল্টার চাষ ও উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। তবে বাজারে হলুদ রঙের মাল্টার চাহিদার একটি বড় অংশ এখনো দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিশর থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে।
বাজারে আমদানিকৃত মাল্টা প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১০০ টাকা কেজিতে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে দেশি মাল্টা তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বারি মাল্টা-১ চাষে কৃষকেরা সফলতা পাচ্ছেন। এ জাতের চাষ শুরু হয় ২০১৬ সালে এবং এখন এর চাহিদা দেশে-বিদেশে বাড়ছে।
বারি মাল্টা-১ চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। এক বিঘা জমিতে ১০০ থেকে ১২০টি চারা রোপণ করা যায়। রোপণের দুই বছর পর ফল সংগ্রহ শুরু হয় এবং এক গাছ থেকে প্রথম বছরে ১০-২০ কেজি এবং পরের বছর প্রায় ৪০ কেজি মাল্টা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে গত অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। এতে বিদেশি মুদ্রার চাপ তৈরি হচ্ছে।
মাল্টা আমদানিতে শুল্কহার বৃদ্ধি এবং দেশীয় গবেষণায় নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ফলের গুণগত মান, স্বাদ, রং, সংরক্ষণব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের উন্নয়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণা, উদ্ভাবন ও কৃষকের উদ্যোগের সমন্বয়ে অদূর ভবিষ্যতে দেশেই আরও উন্নত মানের মাল্টা উৎপাদন করা সম্ভব। এতে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
দেশি ফলের উৎপাদন বাড়ুক, সমৃদ্ধ হোক বাংলাদেশের কৃষি।
ত/জু



