আপনার সন্তানকে এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন, যেখানে তারা অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুর্ব্যবহার বা সহিংসতার সম্মুখীন হতে পারে। একই সঙ্গে বাবা-মা হিসেবে নিজের মানসিক চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস—সীমা নির্ধারণ ও নিজের যত্ন নেওয়া—শেখান, যাতে সন্তানও তা অনুসরণ করতে শেখে।
নিরাপদ, স্থিতিশীল ও স্নেহময় পরিবেশ শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সহিংসতা বা দীর্ঘস্থায়ী চাপের সংস্পর্শে শিশুর ‘টক্সিক স্ট্রেস’ তৈরি হতে পারে, যা শেখা, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সন্তানের সুরক্ষায় করণীয়
প্রতিদিন কিছু সময় সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন বা খেলুন।
স্কুল, অনলাইন ও সমাজে কী ভালো বা খারাপ আচরণ, তা সহজভাবে বুঝিয়ে দিন।
সন্তানের আচরণ, ঘুম, খাওয়া বা মেজাজে হঠাৎ পরিবর্তনে নজর রাখুন।
অনলাইনে বিপদ, সহিংসতা বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে কী করতে হবে, তা শেখান।
কে তাদের দেখভাল করছে, কার সঙ্গে তারা আছে—তা জানুন।
সন্তান কোনো সমস্যা বললে তাকে বিশ্বাস করুন, দোষারোপ না করে শান্তভাবে শুনুন এবং তাকে বলুন—‘তুমি নিরাপদ, এটা তোমার দোষ নয়।’
নিজের মানসিক চাপ সামলান
অভিভাবকের সুস্থতা সন্তানের সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিজের যত্ন নেওয়া সন্তানের যত্ন নেওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
চাপ বেড়ে গেলে কিছুক্ষণ থামুন, ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং রাগ বা ক্ষোভে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শান্ত হয়ে কথা বলুন। প্রয়োজনে পরিবার, বন্ধু বা পেশাদার সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না।
ইতিবাচক শৃঙ্খলা ও সীমা
চিৎকার বা শারীরিক শাস্তি শিশুর বিকাশে ক্ষতিকর হতে পারে। বরং বয়স-উপযোগী স্পষ্ট নিয়ম, ইতিবাচক প্রশংসা এবং শান্ত পরিণতি ব্যবহার করুন।
স্ক্রিন টাইম, বাইরে যাওয়া, অনলাইন নিরাপত্তা বা ঘরের নিয়ম—এসব ক্ষেত্রে বয়স-উপযোগী সীমা ঠিক করুন এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করুন। এতে সন্তান নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা পাবে।
আপনি নিজে শান্ত থাকলে, সীমা মানলে এবং নিজের যত্ন নিলে সন্তানও তা শিখবে। এভাবেই গড়ে উঠবে নিরাপদ, স্নেহময় ও সুস্থ পরিবার।
ত/জু



