শীতের প্রকৃত আগমন এখনো শুরু না হলেও বগুড়ার ধুনট উপজেলার গ্রামীণ ফসলি মাঠজুড়ে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের ব্যস্ততা। ভালো দামের আশায় মৌসুম শুরুর আগেই আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা।
কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ পরিচর্যা করছেন আগে লাগানো সবজির গাছ। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো দাম পেলে এবার লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও চলছে হালচাষ ও সার প্রয়োগ, কোথাও গাছে দেওয়া হচ্ছে কীটনাশক। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ নতুন করে সবজির চারা রোপণ করছেন। আবার কোনো কোনো কৃষক ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন বাজারে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, শসা, টমেটো, মুলা, লাউ, করলা, মরিচ, শইলা, পালংশাক, ধনিয়াপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে মাঠে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ১ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ছিল ১ হাজার ৬৫১ হেক্টর, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৫ হেক্টর জমিতে বেশি সবজির চাষ হয়েছে।
১৫ অক্টোবর থেকে রবি মৌসুম শুরু হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় এখন পর্যন্ত ৩৩৮ হেক্টরের বেশি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছেন কৃষকরা।
কৃষক রিপন মিয়া জানান, প্রতি বছরই তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। এবার তিনি ১৮ শতক জমিতে করলা চাষ করেছেন। সবজি বাজারজাত পর্যন্ত তার ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। তবে বাজার ভালো পেলে তিনি ৬০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করতে পারবেন।
আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাবে। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন তারা।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ ধরনের চাষে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ ও পোকামাকড় দমনে বাড়তি খরচ করতে হয়। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।
উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুরুন নাহার বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে তারা সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ভালো ফলন পেতে পারেন।
ত/জু



