পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের পাশাপাশি কোনও ঘটনায় ফৌজদারি অপরাধের উপাদান থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রচলিত আইনেও জবাবদিহি করতে হবে। একই মঞ্চে সাহসিকতা, বীরত্ব ও উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপিসহ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক তুলে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, সৎ উদ্দেশ্যে দায়িত্ব পালনকালে ছোটখাটো ভুল ভিন্নভাবে বিবেচিত হবে, কিন্তু ইচ্ছাকৃত অনিয়ম বা অবহেলার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলামূলক ও আইনগত—উভয় ব্যবস্থাই কার্যকর হবে। পুলিশকে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশের কাজে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না।
অনুষ্ঠানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল আগামী সপ্তাহেই দেশে একটি স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট চালুর বিষয়ে। একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত এই ইউনিট ধাপে ধাপে মহানগর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে বলে জানান তিনি। সাইবার অপরাধ বিশ্লেষণে জটিল মামলাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে এবং তুলনামূলক সহজ মামলাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের সক্ষমতা তৈরির কথাও বলেন মন্ত্রী। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামে শিগগিরই একটি বিভাগীয় ফরেনসিক ল্যাব চালুর তথ্যও দেন তিনি।
জনগণের আস্থাকে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রযুক্তি যত আধুনিকই হোক না কেন, মানুষের বিশ্বাস অর্জন ছাড়া কোনও বাহিনী দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না। বিগত সময়ে পুলিশের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, গত সাত মাসে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগে সেই আস্থা ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
আলোচনায় উঠে আসে ‘জুলাই বিপ্লব’ পরিভাষা নিয়েও। মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে পার্থক্য আছে এবং ২০২৪ সালের ঘটনাকে তিনি ‘জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান’ বলাই যথাযথ মনে করেন। এছাড়া র্যাব বিলুপ্ত করে গঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সম্প্রসারিত তদন্ত ক্ষমতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি, যেগুলো ইতোমধ্যে সংসদে আইন আকারে পাস হয়েছে।
সবশেষে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষতার সঙ্গে অপরাধ দমনকারীদের পুরস্কৃত করা হবে, আর অবহেলাকারীদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠোর ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতায় দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন তিনি।
ত/জু



