ভিন্ন কণ্ঠস্বর, ভিন্ন অভিজ্ঞতা—তবু শান্তি গড়ার লক্ষ্যে এক অভিন্ন পরিসরে মিলিত হলেন স্বাগতিক ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা। সম্প্রতি টেকনাফে অনুষ্ঠিত এক ব্যতিক্রমী সংলাপে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, অগ্রাধিকার তুলে ধরেন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠন ও শরণার্থী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যুব উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব, SHED এবং SURD-UNHCR-এর একজন নীতি উপদেষ্টা। তারা একে অপরের মতামত ও অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কমিউনিটি-চালিত সংলাপ তরুণদের নিজস্ব অগ্রাধিকার এবং শান্তি ও সামাজিক সংহতির জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির সুযোগ করে দেয়। আলোচনা কেবল কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি—তা রূপ নেয় বাস্তব পদক্ষেপে। অংশগ্রহণকারীরা যৌথভাবে একটি সম্মিলিত শান্তি কর্মপরিকল্পনা (Collective Peace Action Plan) তৈরি করেন এবং তাতে স্বাক্ষর করেন, যা ভবিষ্যতে শান্তি, অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক সংহতির লক্ষ্যে ধারাবাহিক কাজের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
এই সমাবেশে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ২৪ জন যুব শান্তি চ্যাম্পিয়ন এবং ১৫টি যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনকে। পাশাপাশি গল্প বলা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ক্যাম্প ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।
আয়োজকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ কক্সবাজার অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ত/জু



