দুর্যোগ আসার আগেই প্রস্তুতি

দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই যদি ব্যবস্থা নেওয়া যায়—এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশে “প্রত্যাশিত পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম” বা অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ (এএটিডব্লিউজি)। সম্প্রতি এক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে “জাতীয় অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন কাঠামো” (এনএফএএ) প্রণয়নের লক্ষ্যে একত্রিত হন সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় এবং ইউনিসেফ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও স্টার্ট নেটওয়ার্ক-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় মূলত একটি অভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ, কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সুশাসন কাঠামো প্রণয়ন এবং অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশনকে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত করার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় (এমওডিএমআর), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতামত ও তথ্য এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি নেতৃত্ব, বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তা বিষয়ক দক্ষতা—এই সবকিছুকে একসূত্রে গেঁথে পূর্বানুমানযোগ্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য স্পষ্ট: দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে এর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যগত ত্রাণ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক এই পদ্ধতি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলবে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন