রেলস্টেশনগুলোতে বাধামুক্ত যাতায়াত নিশ্চিতের তাগিদ

দেশের রেলস্টেশনগুলো এখনো সবার জন্য সহজ নয়। প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীরা প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়েন। তাই অবকাঠামো পরিকল্পনার শুরু থেকেই বাধামুক্ত ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৮ আগস্ট রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত হয় ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি ফর অল: বাংলাদেশ রেলওয়ে’ কর্মশালা। আয়োজক ছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ব্র্যাক। বক্তারা একবাক্যে বলেন: বাধামুক্ত যাতায়াত বিশেষ সুবিধা নয়, এটি অধিকার। এই দায়িত্ব রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

কর্মশালায় উঠে আসে বাস্তব চিত্র। স্টেশনে ঢোকা, প্ল্যাটফর্মে চলাফেরা, ট্রেনে ওঠানামা—প্রতিটি ধাপেই বাধা পান প্রতিবন্ধী যাত্রীরা। তথ্যও সহজে মেলে না। প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব যাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে।

প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের বার্তা স্পষ্ট-‘‘স্টেশনে পৌঁছানো থেকে গন্তব্যে নামাএই পুরো যাত্রা স্বাধীনভাবে হতে হবে। তবেই প্রকৃত বাধামুক্ত সেবা মিলবে।’’ পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।

রেলওয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানান, নতুন মাস্টারপ্ল্যানে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের কথা ভাবা হয়েছে। মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন দেন প্রতিশ্রুতি—গড়ে তুলবেন সবার জন্য সহজ রেলব্যবস্থা।

ব্র্যাকের নাফিউল হাসান জানান,- দেশের চারটি স্টেশনে ইতিমধ্যে মূল্যায়ন হয়েছে। বেরিয়ে এসেছে বেশ কিছু ঘাটতি। সহকর্মী শাশ্বতী বিপ্লবের কথায় হতাশার সুর। দেশে আইন-নীতিমালা কম নেই। কিন্তু বাস্তবায়ন হয় সামান্যই। তাঁর মতে, আংশিক বাস্তবায়নই এনে দিতে পারে বড় পরিবর্তন।

অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যও স্পষ্ট। দৃষ্টি, শ্রবণ, শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক—সব প্রতিবন্ধিতার চাহিদা এক নয়। তাই স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, কোচ ও তথ্যব্যবস্থা—সবকিছুর নকশায় থাকতে হবে এই বৈচিত্র্যের হিসাব। নতুন নির্মাণের প্রথম দিন থেকেই যুক্ত করতে হবে প্রবেশগম্যতা।

কর্মশালায় ছিলেন সরকারি ও রেলওয়ে কর্মকর্তা। ছিলেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ছিলেন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মানুষজনও।

শেষ কথা একটাই। বাধামুক্ত রেলসেবাই এনে দিতে পারে নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ যাত্রা। সময় এসেছে সেটি বাস্তবায়নের।

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন