ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে তথ্য পাওয়া সহজ হলেও ভুল তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ঝুঁকি বেড়েছে। এ বাস্তবতায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং অপতথ্য মোকাবিলায় সঠিক তথ্যের ব্যাপক প্রচারের তাগিদ দিয়েছেন বাগেরহাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাটে র্যালি ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বাগেরহাট সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগিতায় এ কর্মসূচি হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার বক্তারা
সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেন। মূল বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনা করেন সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম টুকু।
আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাগুফতা হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মঈনুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মল্লিক, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মাহবুব মোর্শেদ লালন, প্রেসক্লাব প্রতিনিধি ইয়ামিন আলী এবং তরুণ শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান।
তথ্য অধিকার আইন ও বাস্তব সমস্যা
বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অন্যতম। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাতেও তথ্যের অবাধ প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয়। দীর্ঘদিন তথ্য কমিশন পুনর্গঠন না হওয়ায় নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
অপতথ্য মোকাবিলায় জোর
আলোচনায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই তথ্য যাচাই করে সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্যের ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত দেন বক্তারা।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “সর্বসাধারণের তথ্য-উপাত্তে প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।” তাঁর ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে তথ্যই শক্তি এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি জানান, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ইউপি সেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প ও তার ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।



