এমআইসিএস ২০২৫: ৬৪ জেলার ৬২ হাজার পরিবারের তথ্যে উঠে এল শিশু ও নারীর প্রকৃত চিত্র। জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের পথে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জন্য শিশুদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, বৈষম্য চিহ্নিতকরণ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী তথ্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন মেটাতে ইউনিসেফের বৈশ্বিক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বাস্তবায়ন করেছে মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) ২০২৫। ইউনিসেফ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এই জরিপ দেশে শিশু, কিশোর-কিশোরী, নারী ও পরিবারের পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃত জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল জরিপ।
জরিপটি দেশের ৬৪টি জেলাতেই পরিচালিত হয়েছে। ৬৪ জেলা ও তিন সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ৬৭টি এলাকা থেকে সমানভাবে নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি এলাকায় ছিল ৪৭টি করে ক্লাস্টার। এর ফলে জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল ৩ হাজার ১৪৯টি ক্লাস্টারের ৬২ হাজার ৯৮০টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও তিন সিটি করপোরেশন পর্যায়ে এসডিজির ২৭টি সূচক এবং এমআইসিএসের ১৭৩টি মানসম্মত সূচকের পরিস্থিতি এতে তুলে ধরা হয়েছে। শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, সুরক্ষা, প্রতিবন্ধিতা, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং নারী ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও জরিপে উঠে এসেছে।
জরিপের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বাংলাদেশে এই প্রথম এত বড় পরিসরের জাতীয় গৃহস্থালি জরিপে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের রক্তে সিসা (লেড) এবং আরও তিনটি ভারী ধাতুর মাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইউনিসেফ ও এর অংশীদারদের জন্য এই জরিপ শিশু অধিকার এগিয়ে নেওয়ার একটি শক্তিশালী তথ্যভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সরকারকে আরও সমতাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, বাজেট তৈরি ও সেবা প্রদানে সহায়তা করবে। ভৌগোলিকভাবে বিভাজিত নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও জনগোষ্ঠীর কাছে সম্পদ ও সেবা পৌঁছানো সহজ হবে। শিশু অধিকার বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জবাবদিহিও এতে আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এমআইসিএস ২০২৫-এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে জরিপের ফলাফল কতটা কার্যকরভাবে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়, তার ওপর। প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকা, বিকশিত হওয়া ও পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে নীতি ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় এই তথ্য কতটা কাজে লাগানো হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় বিষয়।
ত/জু



