নারীর খাদ্যভান্ডারে আগামীর নিরাপত্তা

প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়া গাইবান্ধার প্রত্যন্ত ও দুর্যোগপ্রবণ দুটি ইউনিয়ন ফুলছড়ি ও ফজলুপুরে মাসের পর মাস কাজ হারান কৃষি ও দিনমজুর শ্রমিকেরা। টিকে থাকতে অনেককে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, নয়তো বিক্রি করতে হয় সম্পদ। দুর্বল অবকাঠামো, অপ্রতুল স্কুল ও অনিয়মিত নৌ-চলাচল এই জনপদগুলোকে আরও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। কাজের খোঁজে অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে যাওয়ায় দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করতে হয় নারীদেরই।

এই বাস্তবতায় ২০২৩ সালে এমজেএফের সহযোগিতায় ও ঢাকায় সুইডিশ দূতাবাসের অর্থায়নে ‘ক্রেয়া’ (CREA) প্রকল্প শুরু করে এসকেএস ফাউন্ডেশন। প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা হয়েছে কমিউনিটি খাদ্যভান্ডার। এর সদস্যরা প্রতি মাসে এক কেজি করে চাল জমা দেন এবং জরুরি প্রয়োজনে সেখান থেকে চাল ধার নিতে পারেন।

স্বাভাবিক সময়ে নেওয়া চাল দুই মাসের মধ্যে কোনো বাড়তি ছাড়াই ফেরত দিতে হয়। আর দুর্যোগজনিত প্রয়োজনে ধারের চাল ফেরতের সময় পাঁচ মাস পর্যন্ত, তখন মূল চালের সঙ্গে অতিরিক্ত এক কেজি ফেরত দিতে হয়। সবার সম্মতিতে নিয়মকানুন পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে, ফলে ভান্ডারটি নমনীয়, স্থানীয় মালিকানাধীন এবং পরিবর্তিত চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল।

পরিবারে অসুস্থতা দেখা দিলে অসুস্থ স্বামীর জন্য খাদ্যভান্ডার থেকে পাঁচ কেজি চাল ধার নেন কাদভানু বেগম। তিনি বলেন, “আমি একটুও দ্বিধা করিনি, কারণ এটা আমাদের নিজেদের ব্যাংক। আমরা নিজেরাই এটি গড়েছি। নিজের কাছ থেকে ধার নিতে লজ্জা কীসের?”

কয়েক বছর আগে স্বামী নিখোঁজ হওয়া ফাতেমা বেগমের কাছে খাদ্যভান্ডার এক বড় ভরসার নাম। তিনি বলেন, “দুঃসময়ে আমার পরিবারের পাশে সবার আগে এটিই দাঁড়াবে।”

ক্রেয়ার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা হিসাব-নিকাশ, নথিপত্র সংরক্ষণ ও খাদ্যভান্ডার পরিচালনায় স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। আজকের সামান্য সঞ্চয়ই এভাবে আগামী দিনের নিরাপত্তার ভিত গড়ে দিচ্ছে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন