শ্রম অভিবাসন শেষে দেশে ফেরা শ্রমিকদের শ্রমবাজারে পুনরায় প্রবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৩০ মাস মেয়াদি একটি যৌথ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং জাতিসংঘের আরও চারটি সহযোগী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর লক্ষ্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রবাসফেরতদের অধিকারভিত্তিক ও টেকসই পুনর্একীকরণ নিশ্চিত করা।
বিভিন্ন সংকটের কারণে হঠাৎ দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য দেশে ফেরা প্রায়ই জটিল আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। বিশেষ করে শ্রমবাজারে পুনরায় প্রবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রাপ্তিতে তাঁরা নানা বাধার মুখে পড়েন। দক্ষতার স্বীকৃতির অভাব এবং তাৎক্ষণিক জীবিকার সুযোগ না থাকায় তাঁদের এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
জাতিসংঘের মাইগ্রেশন মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ডের (UN Migration MPTF) সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগ আইএলওর ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক এজেন্ডা’র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পূর্ব অর্জিত দক্ষতার মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি (আরপিএল) এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে জেন্ডার-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে নারী অভিবাসী শ্রমিক এবং সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ সহায়তা পান।
সরকারি প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক সংগঠন এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মাধ্যমে কর্মসূচিটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মসংস্থান সেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
ত/জু



