ইউল্যাবে ‘টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা; দুর্নীতিবিরোধী শপথ নিলেন ৪৫ তরুণ সংগঠক।
টেকসই উন্নয়ন অর্জনে শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তরুণ সংগঠকদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মশালার আয়োজন করেছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর ইয়েস গ্রুপ। ১ অক্টোবর ২০২৬ ইউল্যাবের মূল ভবনে অনুষ্ঠিত “টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়” শীর্ষক এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের ৪৫ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, টেকসই উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয় নয়; এর অন্যতম পূর্বশর্ত শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান। আর এ লক্ষ্য অর্জনে এমন তরুণ প্রজন্ম প্রয়োজন, যারা শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশী নয়, বরং পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার ও নেতৃত্বদাতা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের বৈশিষ্ট্য ও চ্যালেঞ্জ এবং এসডিজি অর্জনে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ছাড়া তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর মাধ্যমে নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি। দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে তরুণ সংগঠকদের সম্মিলিত উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং তা থেকে উত্তরণের বাস্তবভিত্তিক কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিভিন্ন ক্লাবের সংগঠক হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেদের করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় তাঁরা নিজ নিজ পরিসরে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউল্যাবের স্কুল অব বিজনেসের সহযোগী অধ্যাপক ও বিবিএ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ড. এ এফ ওয়াজির আহমেদ। তিনি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে, নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার প্রতিজ্ঞা করতে হবে; তবেই অন্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব বিজনেসের সিনিয়র প্রভাষক ড. মুহাম্মদ তাওহীদ রিয়াজ। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং নিজ নিজ সংগঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চার ওপর জোর দেন।
আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তরুণ সংগঠকেরা উপলব্ধি করেন, সুশাসনের চর্চা শুধু প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; এটি শুরু হতে পারে নিজেদের ব্যক্তিজীবন, সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিসর থেকেই। কর্মশালার শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকেরা দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন এবং দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ ও সুশাসনের চর্চা নিজেদের সংগঠন ও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ত/জু



