বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও জীবিকা-উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ‘পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন সিএইচটি রিজিয়ন’ (পিআরএলসি) প্রকল্পের আওতায় মাশরুম চাষ, মৌচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নার্সারি, কেঁচো সার উৎপাদন ও ডিজিটাল কৃষি সাক্ষরতার প্রশিক্ষণ পেয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পের ‘রাইজিং হিলস’ কার্যক্রমে উঠে এসেছে এমন কয়েকটি সাফল্যের গল্প।
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বাতালী পাড়ার হালিমা বেগম প্রকল্পের ৭ হাজার ২১০ টাকার সহায়তায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গড়েছেন একটি ছোট নার্সারি। নার্সারি ব্যবস্থাপনা ও চারা উৎপাদনের প্রশিক্ষণ থেকে তিনি জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। এখন চারা বিক্রি করে মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় করছেন, যা তাঁর পরিবারের আয় ও সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই ইউনিয়নের হিমছড়ি পাড়ার শাকেরা আক্তার প্রকল্পের সহায়তাপ্রাপ্ত ৮৯টি দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের একটির সদস্য। ঘরের বর্জ্য থেকে কেঁচো সার তৈরি করে তিনি নিজের বাগানে ব্যবহার করছেন, ফলে সার কেনার খরচ কমেছে। নিজের চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি সার প্রতি কেজি ১০ টাকায় বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
প্রশিক্ষণে ২০৪ জন অগ্রসর কৃষক মৌচাষের দক্ষতা বাড়িয়েছেন, যাঁদের ১৫২ জন এখন সক্রিয়ভাবে মধু উৎপাদন করছেন। বান্দরবান সদরের ইরাদং পাড়ার সোয়েচিংমং মারমা কৃষক মাঠ স্কুলে এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের কুরামারার কাঞ্চনা চাকমার জন্য মৌচাষ হয়েছে বাড়তি আয়ের উৎস, যেখানে তিনি স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছেন।
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ইন্দ্রমণি কারবারি পাড়ার রূপান্তর চাকমাসহ ৩৭২ জন অগ্রসর কৃষক দুই দিনের ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রকল্পের দেওয়া ট্যাবলেটে তাঁরা কৃষিসংক্রান্ত অ্যাপ ব্যবহার, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারদর জানা এবং পোকা দমনের তথ্য পাওয়ার কৌশল শিখছেন। এতে তাঁরা সময়মতো ও জলবায়ু-সহনশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। গুইমারার থলি পাড়ার পাইছানু মারমা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ির আশপাশের উপকরণে আচার ও জেলি তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের কাছে তাঁর পণ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অল্প সময়েই এই উদ্যোগ থেকে তিনি ১৫ হাজার টাকা আয় করেছেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এসব উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে আরও সহনশীল জীবিকা ও সুস্থ জীবন গড়তে সহায়তা করছে।
ত/জু



