কক্সবাজারের হোপ হাসপাতালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স’ (ফিগো) এবং ‘ফিস্টুলা ফাউন্ডেশন-ইউএসএ’-এর সহযোগিতায় ৫ দিনব্যাপী এক ফিস্টুলা সার্জারি কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। কর্মশালায় ১৮ জন রোগী শনাক্তের পর ১৪ জনের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। দেশি-বিদেশি দক্ষ সার্জনদের মাধ্যমে স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং যোগ্য সার্জনের সংখ্যা বাড়ানোই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তাঞ্জানিয়ার বিশেষজ্ঞ ফিস্টুলা সার্জন ডা. পিটার মাজিগে, ডা. জেমস চাপা এবং বাংলাদেশের একুশে পদকপ্রাপ্ত সার্জন অধ্যাপক ডা. সায়োবা আক্তারের পরিচালনায় এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফেলো চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। ডা. জেমস চাপা জানান, যৌথ এই কার্যক্রম বাংলাদেশে ফিস্টুলা সেবাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রসবজনিত ফিস্টুলা মূলত প্রসবকালীন জটিলতার কারণে সৃষ্ট মূত্রাশয় বা মলদ্বারের একটি ক্ষত, যার ফলে অনবরত প্রস্রাব-পায়খানা নির্গত হতে থাকে। শারীরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি এটি আক্রান্ত নারীদের সামাজিক নিগ্রহ ও গভীর মানসিক উদ্বেগের মুখে ফেলে। ২০১৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৯,৭৫৫ জন ফিস্টুলা রোগী রয়েছেন এবং প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ১,০০০-১,২০০ জন আক্রান্ত হন।
হোপ ফাউন্ডেশন ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ জন ফিস্টুলা রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন সেবা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে ফিস্টুলামুক্ত করতে দক্ষ মিডওয়াইফ নিয়োগ, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ এবং মেডিকেল কারিকুলামে ফিস্টুলা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।



