মনোরমা বসুকে স্মরণ করল মহিলা পরিষদ

প্রয়াণ দিবসে স্বদেশী ও সাম্যবাদী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা; নারী মুক্তি ও সাম্যের সংগ্রামে অবদান চিরস্মরণীয়।

অবিভক্ত বাংলার স্বদেশী ও সাম্যবাদী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী মনোরমা বসুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ১৬ অক্টোবর দিবসটি উপলক্ষে সংগঠনটি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়। ‘মাসিমা’ নামে পরিচিত এই নেত্রীর নারী মুক্তি, অধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবদান চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

মনোরমা বসু ১৮৯৭ সালের ১৮ নভেম্বর বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার নরোত্তমপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা নীলকণ্ঠ রায় ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সমর্থক।

প্রগতিশীল স্বামীর সমর্থনে জমিদারবাড়ির বাধানিষেধ ও রক্ষণশীলতা তাঁর রাজনৈতিক ও স্বদেশী আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। নিজের বাড়িতে তিনি অনাথ ও দুস্থ নারীদের জন্য ‘মাতৃমন্দির’ নামে একটি আশ্রম স্থাপন করেন এবং আজীবন নিজেই তা পরিচালনা করেন।

১৯৩২ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে যে প্রথম তিনজন নারী আইন অমান্য করে কারাবরণ করেছিলেন, মনোরমা বসু ছিলেন তাঁদের একজন। নারীর অধিকার রক্ষায় তিনি বরিশালে গড়ে তোলেন ‘মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি’। চল্লিশের দশকের শুরুতেই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। ১৯৪২ সালে সমিতির সূচনাপর্ব থেকে তিনি বরিশাল জেলা সমিতির অন্যতম নেত্রী হিসেবে কাজ পরিচালনা করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহসভানেত্রী ছিলেন।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন