অনাবাদী ঘের বদলে দিল নীলিমাকে

উপকূলীয় প্রতিকূলতা আর অভাব-অনটন কাটিয়ে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন এক সংগ্রামী নারী। অভাবের সংসারে কঠিন শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সামলানো সেই নীলিমা রানী আজ নিজ এলাকায় আত্মপ্রত্যয়ী ও সফল একজন কৃষি-উদ্যোক্তা। অনাবাদী ঘেরকে সমন্বিত খামারে রূপান্তর করে এলাকায় তিনি এখন ‘ফার্ম-কুইন’ বা ‘খামার-রানী’ নামে পরিচিত।

ঝালকাঠি অঞ্চলের কাঁঠালতলী ইউনিয়নের পরিঘাটা গ্রামের বধূ নীলিমা রানীর স্বামীর ঘরের পাশেই ছিল একটি অবহেলিত ঘের, যা বছরের পর বছর পড়ে থাকত। নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) পরিচালিত ‘ক্রিয়া’ (CREA) প্রকল্পের নারী দলে যোগ দেওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। সেখান থেকে তিনি উপকূলীয় এলাকার উপযোগী জলবায়ু-সহনশীল কৃষিপ্রযুক্তি—যেমন মালচিং, মাচা চাষ, সুরজান পদ্ধতি এবং লবণাক্ত মাটিতে ফসল ফলানোর নানা আধুনিক কৌশল শেখেন।

প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নীলিমা সেই অনাবাদী ঘেরকে একটি উৎপাদনশীল সমন্বিত খামারে পরিণত করেন। সেখানে তিনি শসা, করলা, লাউ ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষের পাশাপাশি পরিবারের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ও অতিরিক্ত আয়ের জন্য সূর্যমুখী চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর খামারে একই সাথে শাকসবজি, মৌসুমি ফসল, ফলজ গাছ এবং মাছের চাষ হচ্ছে, যা তাঁর পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তাও এনে দিয়েছে। কেবল গত মৌসুমেই সবজি বিক্রি করে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন।

এই অর্থনৈতিক সাফল্য নীলিমার সংসারে তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মতামত প্রকাশের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। অভাব কেটে যাওয়ায় কমবেশি কমেছে সংসারের চাপ ও ক্লান্তি, আর বৃদ্ধি পেয়েছে নিজের ওপর বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা। একসময়ের অভাবী এই গৃহবধূ এখন স্থানীয় অন্য নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় অনুপ্রেরণার নাম।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন