চরের উঠান বৈঠকে বদলে যাচ্ছে জীবন

গাইবান্ধার ফুলছড়ির ফজলুপুর চরে ‘ক্রিয়া’ প্রকল্প; উঠান বৈঠকে শিখে বস্তায় সবজি চাষ ও উঁচু মাচায় হাঁস পালনে বন্যার ঝুঁকি কমাচ্ছেন নারীরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকতে শুধু শক্তি নয়, প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প, উদ্ভাবন ও সম্মিলিত সহনশীলতা। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত চর ফজলুপুরে সেই সংকল্প নিয়েই এগোচ্ছেন স্থানীয় মানুষ, বিশেষ করে নারীরা। মানবিক ফাউন্ডেশন বা মিউজ (এমজেএফ) ও এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ঢাকায় সুইডেন দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘ক্রিয়া’ (CREA) প্রকল্প তাঁদের জলবায়ু অভিযোজন ও জীবিকা রক্ষায় সহায়তা করছে।

পাতালিয়া গ্রামের ‘দোয়েল’ নারী দলের সদস্যরা মাসিক উঠান বৈঠকে জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি ও জীবিকার কৌশল শেখেন। সেই জ্ঞান তাঁরা কাজে লাগাচ্ছেন সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে, যাতে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি কমে এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়।

এর ফল এখন গ্রামজুড়ে দৃশ্যমান। সাখিনা বেগম ও তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলাম বস্তায় মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন। আনোয়ারা বেগম ছাগল পালন করছেন। রাশেদা বেগম বন্যা থেকে হাঁস বাঁচাতে উঁচু মাচাসহ ঘর তৈরি করে তাঁর হাঁসের খামার বড় করেছেন। মৌসুমী আক্তার বাড়ির আশপাশে বস্তায় আদা, হলুদ, পেঁপে, মরিচ, বেগুনসহ নানা ফসল ফলাচ্ছেন। গ্রামবাসীরা এমনকি রাস্তার ধারের সরু জায়গাকেও উৎপাদনশীল জমিতে রূপ দিচ্ছেন।

প্রকল্পের মাধ্যমে বীজ মূলধন দিয়ে একটি আবর্তক আয়বর্ধক কার্যক্রম (আইজিএ) তহবিলও গঠন করা হয়েছে, সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তহবিল ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ। সদস্যরা সঞ্চয় জমা দেন, প্রয়োজনে ঋণ নেন এবং সামান্য সার্ভিস চার্জসহ তা পরিশোধ করেন। সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ক্রিয়া প্রকল্প অর্থায়ন, উপকরণ ও প্রশিক্ষণ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে পরিবারগুলো আরও শক্তিশালী ও সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে পারছে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন