বৃষ্টির পানিতেই কল্যাণীর নতুন জীবন

পাইকগাছায় ওয়াশ ফর আরবান পুওর প্রকল্পে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা; পানি আনার ঝক্কি কমে সেলাইয়ে সময় দিচ্ছেন কল্যাণী রানী বৈদ্য।

লবণাক্ততার কারণে মিঠা পানির সংকটে থাকা পাইকগাছায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা বদলে দিচ্ছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবন। ওয়াশ ফর আরবান পুওর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে নবলোকের সহায়তায় এ পর্যন্ত ২৯টি জলবায়ু-সহনশীল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যার সুফল পাচ্ছেন ১২৩ জন মানুষ।

পাইকগাছা জিরো পয়েন্ট থেকে খুব দূরে নয় শীলপাড়ার কল্যাণী রানী বৈদ্যদের বাড়ি। বর্ষায় নিচু জমিতে পানি উঠলে সেখানে পৌঁছাতে অন্যের জমির আল ধরে হাঁটতে হয়। এলাকায় পানি থাকলেও জলাশয় ও নলকূপের পানিতে লবণ থাকায় বহু পরিবারের ভরসা বৃষ্টির পানি। অথচ সেই পানি নিরাপদে ধরে রাখার ব্যবস্থা কল্যাণীদের ঘরে ছিল না।

কল্যাণীর স্বামী সুজিত বাসচালক, তবে বাস প্রতিদিন রাস্তায় নামে না বলে আয়ও নিয়মিত নয়। বড় ছেলে শুভ এসএসসি পাসের পর টাকার অভাবে পড়াশোনা থামিয়েছে। ছোট ছেলে সুজয় স্কুলে পড়ে। সংসার সামলাতে কল্যাণী উঠোনে হাঁস-মুরগি পালন করেন, আর অবসরে সেলাই মেশিনে বাজারের দোকানের জন্য কাপড়ের ব্যাগ বানান।

আগে সেই অবসরটুকু বারবার হারিয়ে যেত পানির পেছনে। বর্ষায় তাঁরা সামান্য বৃষ্টির পানি মাটির ছোট পাত্রে ধরে রাখতেন। শুকনো মৌসুমে দূরের পুকুর থেকে কলসিতে পানি আনতে যেতে হতো, যাওয়া-আসা মিলিয়ে সময় লাগত প্রায় এক ঘণ্টা, তা-ও দুবেলা। অনেক সময় ছোট ছেলেকে বাড়িতে রেখেই যেতে হতো। ফেরার পথে কল্যাণীর দুশ্চিন্তা থাকত, খেলতে খেলতে ছেলে পানিতে পড়ে যায় কি না। এর সঙ্গে ছিল পেটের অসুখ ও ওষুধের খরচ।

প্রকল্পের আওতায় কল্যাণীদের বাড়িতে বসানো হয় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এতে পরিবারটি নিজেরাও পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছে। বর্ষার প্রথম দিনে কল্যাণী শেখেন, শুরুর ময়লা পানি কীভাবে ফেলে দিতে হয়, ট্যাংক কীভাবে পরিষ্কার রাখতে হয় এবং জমানো পানি কীভাবে নিরাপদ রাখতে হয়। যে বৃষ্টির পানি আগে হারিয়ে যেত, এখন তা জমে থাকে খাওয়া ও রান্নার জন্য।

কল্যাণী বলেন, “নিরাপদ পানি আমাদের অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। এখন পানি আনতে দূরে যেতে হয় না, অসুখও কমেছে। আমি সেলাইয়ের কাজে বেশি সময় দিতে পারি।”

সেই বাড়তি সময়ে এখন ঘরে সেলাই মেশিনের শব্দ শোনা যায়। কল্যাণীর বানানো ব্যাগ বাজারে বিক্রি হয়, এতে দিনে ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। পানি আনতে যে সময় পথে কেটে যেত, এখন তা তাঁর নিজের কাজে লাগছে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন