বর্তমান আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজের উপহাস উপেক্ষা করে সংসারের কাজে স্ত্রীর পাশে শ্যামনগরের গাবুরার এক পুরুষ; তাঁর দৃষ্টান্তে বদলাচ্ছে এলাকার ভাবনা।
দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য ও পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতিতে ঘেরা দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বেড়ে উঠেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের হাবিবুল্লাহ গাজী। এলাকার আরও অনেক পুরুষের মতো তিনিও একসময় ভাবতেন, ঘরের কাজ ও সন্তানের যত্ন মূলত নারীদের দায়িত্ব। সেই ধারণা বদলে নিজে ঘরের কাজে অংশ নিয়ে এখন তিনি এলাকায় পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।
হাবিবুল্লাহর ভাবনা বদলাতে শুরু করে তাঁর স্ত্রী ‘ক্রিয়া’ (CREA) প্রকল্পের নারী দলে যোগ দেওয়ার পর। লেডার্স (লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সেখানে জেন্ডার সমতা, নারীর অধিকার ও সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা তাঁর বোঝাপড়াকে বিস্তৃত করে এবং ঘরের কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
এরপর থেকে হাবিবুল্লাহ রান্না, পানি আনা, থালাবাসন ধোয়া, কাপড় কাচা, ঘর পরিষ্কার ও সন্তানের যত্নে স্ত্রীকে সাহায্য করছেন। সমাজের উপহাসের মুখে পড়লেও তিনি অবিচল থেকেছেন এবং অন্যদেরও বোঝাতে চেয়েছেন, ঘরের কাজ ভাগ করে নেওয়া লজ্জার নয়, বরং দায়িত্ব ও শ্রদ্ধার প্রকাশ।
তিনি বলেন, “পুরুষরা যদি ঘরের কাজ ভাগ করে নেয়, নারীদের বোঝা কমে, তারা বিশ্রামের বেশি সময় পায় এবং পরিবারগুলো আরও সুখী ও শান্তিপূর্ণ হয়। এই সচেতনতা প্রতিটি পরিবারে পৌঁছানো উচিত।”
তাঁর দৃষ্টান্ত এলাকার অন্য পুরুষদেরও ঘরের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর ছেলেও মাকে কাজে সাহায্য করতে শুরু করেছে, যা প্রজন্মের মধ্যে মনোভাব বদলের ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
ত/জু



