মানসম্মত শিক্ষায় বাধা দূর করার আহ্বান ইউনিসেফের

ইতিবাচক শিক্ষার ফলাফল আসে কার্যকর শিক্ষণ অনুশীলন, সহায়ক তত্ত্বাবধান, স্কুলের অনুকূল পরিবেশ এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে। তবে মানসম্পন্ন ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে গ্রেড পুনরাবৃত্তি, শিক্ষক ঘাটতি এবং প্রাইভেট টিউশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মোকাবিলা করা অপরিহার্য মনে করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থীদের ভিত্তিগত দক্ষতা গড়ে তুলতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের প্রস্তুতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষণ প্রয়োজন। শিক্ষাবিদরা বলছেন, পুনরায় শেখানোর সুযোগকে আলাদা প্রকল্প নয়, বরং নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, সহানুভূতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল পরিবেশ এবং বাড়িতে অভিভাবকদের নিয়মিত সহযোগিতা শেখার ফলাফল উন্নত করে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে ভালো শিক্ষার ফলাফলের সম্পর্কও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

গ্রেড পুনরাবৃত্তি: ২০২২ সালের জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নের তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণি পুনরাবৃত্তি শিক্ষার্থীর দক্ষতা বাড়ায় না। তাই ব্যর্থতা দেখিয়ে শ্রেণি পুনরাবৃত্তির বদলে শিক্ষার ঘাটতি চিহ্নিত করে সময়মতো সহায়তা দেওয়া জরুরি।

শিক্ষকের ঘাটতি: মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক পদ পূরণ হয়নি বলে জানা গেছে। ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও আইসিটির মতো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের অভাব শ্রেণিকক্ষ শিক্ষাকে দুর্বল করছে।

প্রাইভেট টিউশনের নির্ভরতা: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণের ঘাটতির কারণে অনেক পরিবার টিউশন ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করছে। এতে ধনী-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য বাড়ছে, কারণ সব পরিবার টিউশনের খরচ বহন করতে পারে না।

শিক্ষক নিয়োগ, সুষম বিন্যাস ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে বড় ক্লাসের বদলে শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত যুক্তিসঙ্গত করা, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলভিত্তিক প্রতিকারমূলক শিক্ষা চালু করা এবং টিউশননির্ভরতা কমাতে নিয়মিত ক্লাসের মান বাড়ানো প্রয়োজন।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শুধু পাসের হার নয়, শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা, সমান সুযোগ এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিক্ষণকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন