শূকর পালনে স্বাবলম্বিতার পথে শেফালী তঞ্চঙ্গ্যা

বান্দরবানের বটতলী পাড়ার শেফালী তঞ্চঙ্গ্যা গৃহিণী থেকে হয়ে উঠেছেন একজন সফল শূকর খামারি। ‘ক্রিয়া’ (CREA) প্রকল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা তাঁর আয়ের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে।

একটি নারী দলে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেফালীর এই যাত্রা শুরু। পশুপালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নিজের ৫০০ টাকা এবং প্রকল্পের সহায়তার ৭ হাজার টাকা দিয়ে তিনি প্রথম উন্নত জাতের শূকর কেনেন। পাশাপাশি প্রতিবেশীর একটি শূকর চুক্তিতে পালন করে পাওয়া শূকরসহ পাঁচটি শূকর নিয়ে তাঁর খামারের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রশিক্ষণ বদলে দিয়েছে চর্চা
হাতে-কলমে প্রশিক্ষণে শেফালী সুষম খাদ্য, টিকাদান, কৃমিনাশক প্রয়োগ, রোগ পরীক্ষা ও নিরাপদ আবাসন সম্পর্কে শিখেছেন। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি শূকরগুলো সুস্থ রাখতে পারছেন এবং বিক্রির সময় ভালো দামও পাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে দুটি শূকর বিক্রি করে তিনি ৩৭ হাজার টাকা পেয়েছেন। বাকি তিনটি প্রতিটি ২৫ হাজার টাকায় বিক্রির আশা করছেন।

শেফালী বলেন, “উৎসব ও পারিবারিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক বছরের কম বয়সী শূকর বিক্রি করি।” পশুপালনের পাশাপাশি তিনি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের কাপড় বুনে বিক্রি করেন।

আয়ের সঙ্গে বেড়েছে স্বাধীনতা
আয় বৃদ্ধির সঙ্গে শেফালীর নিজের সময় ব্যবহারের স্বাধীনতাও বেড়েছে। এখন তিনি নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে পারছেন এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন। প্রতিবেশী নারীদেরও জীবিকার নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহ দিচ্ছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীদের প্রশিক্ষণ, ঋণ, বাজার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগে নানা বাধা রয়েছে; এসব বাধা দূর করতে তাঁদের নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর গুরুত্ব উঠে এসেছে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে।

শেফালীর অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শুধু আয় বৃদ্ধি নয়—এটি নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং পরিবার ও সমাজে নিজের অবস্থান শক্ত করারও সুযোগ।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন