ধানব্যাংকে খাদ্য নিরাপত্তার নতুন মডেল

ভোলার বরহনউদ্দিন উপজেলার দুর্গম ধরিয়া গ্রামে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ৩০ জন নারী পরিচালিত একটি ধানব্যাংক। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর ‘ক্রিয়া’ প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা এই কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ দুর্যোগকালে পরিবারগুলোকে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সহায়তা দিচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়, জোয়ারের পানি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ধরিয়ার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, ফসল, কৃষিজমি ও মাছের সম্পদ নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লবণাক্ত পানি জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয়, ফলে বছরে একবারের বেশি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এমজেএফ, জিজেইউএস এবং সুইডেন দূতাবাসের সহায়তায় ‘ক্রিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ৩০ জন নারীর নেতৃত্বে ধানব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার একটি সাধারণ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ধান জমা রাখে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা খাদ্য সংকটের সময় সদস্যরা সেখান থেকে ধান ধার নিতে পারেন এবং ফসল ঘরে তোলার পর তা ফেরত দেন।

এটি স্থানীয় জ্ঞান, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা একটি কমিউনিটি-চালিত খাদ্য নিরাপত্তা মডেল। এর মাধ্যমে সংকটকালে প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের কাছ থেকে লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ধার নেওয়ার প্রয়োজন কমেছে।

‘ক্রিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা দক্ষতা অর্জন করেছেন। ধানব্যাংকের কার্যক্রমে তাঁরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, হিসাব রাখা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছেন।

এই উদ্যোগ শোষণমূলক ধার গ্রহণের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটির সহনশীলতা বাড়িয়েছে। প্রকল্পটি জলবায়ু অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়।

‘ক্রিয়া’ প্রকল্পটি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ভোলাসহ ১৪টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার উপকূল, চর, হাওর ও পাহাড়ি অঞ্চলে কাজ করছে। এর লক্ষ্য নারী ও মেয়েদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বাড়ানো, দারিদ্র্য কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ধরিয়ার ধানব্যাংক দেখাচ্ছে, স্থানীয় সম্পদ ও নারীদের সম্মিলিত নেতৃত্ব ব্যবহার করে জলবায়ু দুর্যোগের সময় খাদ্য নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন