সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের ১৮ বছরের আশা খাতুন একসময় একা হাঁটতে ভয় পেতেন। সামাজিক বিধিনিষেধ তাঁর চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ রাখত এবং পরিবার মনে করত, খেলাধুলা ‘মেয়েদের জন্য নয়’। কিন্তু করাতে প্রশিক্ষণ তাঁর ভয়কে আত্মবিশ্বাসে রূপ দিয়েছে এবং তিনি এখন স্থানীয় মেয়েদের করাতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি)-এর ‘ক্রিয়া’ প্রকল্পের আওতায় বেলকুচি উপজেলায় এক মাসব্যাপী করাতে প্রশিক্ষণে যুক্ত হন আশা। সুইডেন দূতাবাস প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে।
ক্রিয়া যুব দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশা ইতোমধ্যে কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু করাতে প্রশিক্ষণ তাঁকে দিয়েছে আরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর, বেশি আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক রকড় চ্যালেঞ্জ করার সাহস।
ক্রিয়া কর্মীদের সহায়তায় ধীরে ধীরে পরিবারও তাঁর অংশগ্রহণকে গ্রহণ করে। এখন আশা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলাফেরা করেন এবং কমিউনিটির কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি নিজেই প্রশিক্ষক হয়ে সহপাঠী ও স্থানীয় মেয়েদের করাতে শেখাচ্ছেন।
আশার মা গর্বের সঙ্গে বলেন, মেয়ের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব তাঁকে ব্যাপক সম্মান এনে দিয়েছে। কমিউনিটির নেতারাও করাতেকে সবার জন্য কার্যকর আত্মরক্ষার দক্ষতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আশার জন্য করাতে শুধু আত্মরক্ষা নয়; এটি শৃঙ্খলা, মনোযোগ, আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যম। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, একজন তরুণীর ক্ষমতায়ন কীভাবে পুরো কমিউনিটিকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
‘কমিউনিটি-ভিত্তিক সহনশীলতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও অ্যাকশন’ বা ক্রিয়া প্রকল্পটি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর লক্ষ্য নারী ও কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশুবিয়ে রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি।
প্রকল্পের আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন, জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ, স্কুল কার্যক্রম, ‘সমতার মাধ্যমে মর্যাদা’ প্রচারণা এবং সামাজিক নিরীক্ষা শক্তিশালী করা হচ্ছে। আশার গল্প এই কার্যক্রমের একটি জীবন্ত উদাহরণ—যেখানে সাহস ও প্রশিক্ষণ একসঙ্গে সামাজিক বাধা ভাঙতে সহায়তা করেছে।
ত/জু



