ওড়িশার ঘোদানশার মা সরলা স্বনির্ভর দলের সদস্য দীপালী জেনা ২০১৭ সালে ছোট উদ্যোগ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। ওড়িশা লাইভলিহুডস মিশনের ব্যাংক ঋণ সংযোগ ও কমিউনিটি-ভিত্তিক আর্থিক সহায়তায় তাঁর উদ্যোগ এখন মাসে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিট মুনাফা অর্জন করছে।
দীপালী পাফড রাইস, খই, মসলা, বড়ি, বহনযোগ্য ব্যাগ এবং পূজার সামগ্রী উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। তাঁর পণ্য এখন কটক ও ভুবনেশ্বরের বাজারেও পৌঁছাচ্ছে।
স্বনির্ভর দল বা এসএইচজি শুধু ঋণের মাধ্যম নয়; এটি নারীদের সম্মিলিত শক্তি, আর্থিক সাক্ষরতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তার প্ল্যাটফর্ম। দীপালীর মতো নারীরা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঋণ, প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ ও পরামর্শ পাচ্ছেন।
‘লক্ষপতি দিদি’ উদ্যোগের আওতায় এমন একজন এসএইচজি সদস্যকে বোঝায়, যাঁর পারিবারিক বার্ষিক আয় অন্তত ১ লাখ টাকা এবং গড় মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি, যা অন্তত চারটি কৃষি মৌসুম বা ব্যবসায়িক চক্র ধরে টিকে থাকে।
ওড়িশা লাইভলিহুডস মিশন স্বনির্ভর দলগুলোকে ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করে সুদসহায়তা, কমিউনিটি বিনিয়োগ তহবিল এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন পাচ্ছেন।
২০২৬ সালে ওড়িশায় ২৬ লাখেরও বেশি নারী ‘লক্ষপতি দিদি’র মর্যাদা অর্জন করেছেন। এ ছাড়া স্বনির্ভর দলগুলোর গড় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ২০২৪ সালের ৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫.৯৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
দীপালীর সফলতা দেখায়, নারীর সম্মিলিত শক্তি, ঋণের সহজ প্রবেশাধিকার এবং ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কীভাবে জীবিকা বদলে দিতে পারে। তাঁর গল্প গ্রামীণ নারীদের বড় স্বপ্ন দেখতে, নিজের উদ্যোগ শুরু করতে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে অনুপ্রাণিত করবে।
একসঙ্গে এমন একটি সমাজ গড়ি, যেখানে প্রতিটি নারীর সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকবে।
ত/জু



