উপকূল রক্ষায় ১০ লাখ বর্গফুট ম্যানগ্রোভ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক্সেস (ACCESS) প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে ১০ লাখ ৮ হাজার বর্গফুট এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হয়েছে। হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় উত্তরণের উদ্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ম্যানগ্রোভ লবণাক্ত ও জোয়ার-ভাটাপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় জন্মানো বিশেষ ধরনের বৃক্ষ, যা কঠিন পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। এর শিকড় নদীর তীরের মাটি ধরে রেখে ভূমিক্ষয় কমায় এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের রুইয়ার বিল এলাকায় কপোতাক্ষ নদের তীরে ৪ হাজার কেওড়া, ১ হাজার বাইন ও ৮০০ নিমগাছ রোপণ করা হয়েছে।

খুলনার কয়রা সদরের ৪ নম্বর লঞ্চঘাট এলাকায় ১ হাজার কেওড়া, ৩০০ বাইন ও ৩০০ নিম চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ, হড়তকিতলা জি.এম. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ জামিরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ধানসাগরের রাজাপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

ম্যানগ্রোভ বনায়ন উপকূলীয় পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর শিকড় মাটি ধরে রেখে ভূমিক্ষয় কমায় এবং উপকূলীয় প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

রাস্তা ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ স্থানীয় সবুজ আচ্ছাদন বাড়ায়, কার্বন শোষণ করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা করে।

এক্সেস প্রকল্পটি জলবায়ু-সহনশীল সম্প্রদায় গড়ে তোলার জন্য তিনটি মূল স্তম্ভে কাজ করছে—জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সুশাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি প্রবেশাধিকার।

প্রকল্পটি খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও কুড়িগ্রামের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটিকে সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা, নিরাপদ পানি ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

এ ধরনের প্রকৃতিনির্ভর উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য উপকূল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।

ত/জু

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন